ফাঁস হওয়া অডিও নিয়ে মুখ খুললেন জয় চৌধুরী

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দুটি কথোপকথনের অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্রাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া একটি অডিওতে একজনকে ‘মহিলা এমপি কোটা’ নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে জয় চৌধুরীর কণ্ঠ বলে দাবি করা অডিওতে তিনি বলেন, “ভাই, মহিলা এমপি হতে কেউ চায় কিনা দেখেন। আমার কাছে দুটি কোটা আছে।”
অন্য একটি অডিওতে বিদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ আনার বিষয়ে কথোপকথন শোনা যায়। সেখানে বলা হয়, ইতালি থেকে ২ লাখ ইউরো বাংলাদেশে আনার জন্য কম রেটে হুন্ডি সেবাদাতার খোঁজ চাওয়া হচ্ছে।
অডিও দুটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এ বিষয়ে অভিনেতা সাইফ খান নিজের ফেসবুক পোস্টে জয় চৌধুরীর সমালোচনা করে লেখেন, বিভিন্ন সময় তিনি ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন এবং আদর্শহীন আচরণ করেছেন বলে তার অভিযোগ।
অডিওতে হুন্ডির প্রসঙ্গ উঠে আসায় বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে জয় চৌধুরী অডিওতে নিজের কণ্ঠ থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তার দাবি, পুরো কথোপকথনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়নি এবং বক্তব্য আংশিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গুলশান-বনানী এলাকায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তাকে জানানো হয়েছিল, চাইলে একজন নারীকে সংসদ সদস্য হিসেবে সুপারিশ করা যেতে পারে। তিনি শুধু সেই তথ্য পরিচিত একজনকে জানিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, এ ঘটনায় কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়নি এবং প্রয়োজনে তার ব্যাংক হিসাবও যাচাই করা যেতে পারে।
জয় চৌধুরী ‘প্রেম প্রীতির বন্ধন’, ‘অমানুষ হলো মানুষ’ ও ‘আজব প্রেম’সহ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয়ের চেয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন ও বিভিন্ন বিতর্কিত ঘটনার কারণেই তিনি বেশি আলোচনায় রয়েছেন।
এর আগে ২০২৪ সালের শিল্পী সমিতির নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এফডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তার আচরণও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। এবার ফাঁস হওয়া অডিওকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের আগে নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়লেন এই অভিনেতা।