দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে জরুরি অবস্থার মুখে ভেনেজুয়েলা

ভেনেজুয়েলায় এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানায় দেশজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভবন ধস, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে, যার মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, দ্বিতীয় ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ইউমারে শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে।
ভূমিকম্পের কম্পন ভেনেজুয়েলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে অনুভূত হয় এবং প্রতিবেশী কলম্বিয়াতেও এর প্রভাব পড়ে। রাজধানী কারাকাসে একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন স্থানে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ৩২ জন নিহত এবং প্রায় ৭০০ জন আহত হয়েছেন। তবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরকারি নির্দেশনায় ট্রেন ও মেট্রো চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও কয়েক দিনের জন্য পাঠদান স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া কারাকাসের নিকটবর্তী মাইকুয়েতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিমানবন্দরটির কার্যক্রমও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনগণকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একাধিক অঙ্গরাজ্যে ভবন ও অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
উদ্ধারকর্মীরা ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে নিরলসভাবে কাজ করছেন। রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় জরুরি সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাদ্য, পানি ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এদিকে ইউএসজিএস সম্ভাব্য বড় ধরনের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির সতর্কতা দিয়েছে। যদিও ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলা ও আশপাশের অঞ্চলের জন্য জারি করা সুনামি সতর্কতা পরে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভূমিকম্পের সময় অনেক মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে ভবনের ভেতরের আসবাবপত্র ভেঙে পড়া এবং মানুষকে নিরাপদ স্থানে ছুটে যেতে দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি ভেনেজুয়েলার অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে দেশটির অবকাঠামো ও জনজীবনে পড়তে পারে।