ডলারে তেল বিক্রির অনুমতি পেল ইরান, নতুন শর্ত ওয়াশিংটনের

সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির রোডম্যাপ তৈরিতে সম্মত হলেও পরমাণু কর্মসূচি পরিদর্শনের বিষয়টি নতুন করে মতবিরোধের জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনার পর দাবি করেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর পরিদর্শকদের পুনরায় ইরানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া উচিত এবং এ বিষয়ে আলোচনা দ্রুত শুরু হতে পারে। তবে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা পরমাণু পরিদর্শন নিয়ে কোনো নতুন প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আইএইএ-এর সঙ্গে যেকোনো ধরনের সম্পৃক্ততা দেশের সংসদ ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় পরিচালিত হবে।
৬০ দিনের আলোচনার রোডম্যাপ
কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয় পক্ষ ৬০ দিনের মধ্যে একটি বিস্তৃত চুক্তির কাঠামো তৈরি করতে সম্মত হয়েছে।
জেডি ভ্যান্স এই বৈঠককে "খুব ভালো ভিত্তি" হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু করা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিল
আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ ইরানের ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ৬০ দিনের জন্য শিথিল করেছে। এর ফলে ইরান কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও, বৈধভাবে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে।
এই সিদ্ধান্ত ব্যাংকিং লেনদেন, বীমা ও পরিবহন কার্যক্রম সহজ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পরমাণু পরিদর্শন নিয়ে বিরোধ
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা এবং আইএইএ পরিদর্শকদের দেশে প্রবেশের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।
তবে তেহরান এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনের বিষয়ে নতুন কোনো সমঝোতা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত বছরের সংঘাতের সময় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান বেশ কয়েকটি পরমাণু স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শন কার্যক্রম সীমিত করে দেয়।
ট্রাম্পের নতুন সতর্কবার্তা
আলোচনার অগ্রগতির মাঝেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।
অন্যদিকে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রধান পর্যায়ের আলোচনা আপাতত শেষ হলেও দুই দেশের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও লেবানন প্রসঙ্গ
যৌথ বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও লেবাননের মধ্যে একটি "সংঘাত নিরসন সেল" গঠনের বিষয়েও নীতিগত সম্মতি হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি লেবাননের পরিস্থিতিকে ভবিষ্যৎ সমঝোতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও পরমাণু পরিদর্শন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি দূর না হলে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।