বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৪৬, ১৭৯ জন আহত নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার ইসরায়েলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন চান বিরোধী নেতা গোলান ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ছাড়াবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ: জামায়াত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে নিরাপত্তায় এসআরবি-১৩-এর বিশেষ প্রস্তুতি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর আশা সরকারের রোগীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়বে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছেলেকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, অর্থাভাবে অনিশ্চিত রাকিবের জীবন ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার নিয়ে মন্তব্য, জামিন পেলেন সেই সাথী আক্তার
  • আজ বিশ্ব বাবা দিবস

    আজ বিশ্ব বাবা দিবস
    ছবি: সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    বাবা শব্দটি ছোট হলেও এর অর্থ অনেক গভীর ও বিস্তৃত। এর ভেতর জড়িয়ে আছে ভালোবাসা, নির্ভরতা, মায়া আর নিরাপত্তা। প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘বিশ্ব বাবা দিবস’, বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর এক বিশেষ দিন।

    আজ রোববার (২১ জুন) বিশ্ব বাবা দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে পালিত হচ্ছে। সন্তানদের জীবনে শক্তি, সাহস ও নির্ভরতার প্রতীক বাবাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন এটি।

    একজন বাবা শুধু পরিবারের উপার্জনকারী নন; তিনি সন্তানের প্রথম শিক্ষক, প্রথম নায়ক এবং জীবনের কঠিন সময়ে সবচেয়ে বড় আশ্রয়। নিজের স্বপ্ন, ইচ্ছা ও আরাম বিসর্জন দিয়ে তিনি সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন নীরবে।

    মায়ের ভালোবাসা যেমন দৃশ্যমান ও প্রকাশ্য, বাবার ভালোবাসা অনেকটা নদীর গভীর স্রোতের মতো—নিঃশব্দ কিন্তু প্রবল। তিনি খুব কম বলেন, কিন্তু প্রতিটি সিদ্ধান্ত, পরিশ্রম ও দায়িত্বের ভেতর দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করেন।

    বিশ্ব বাবা দিবসের সূচনা যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯০৯ সালে সনোরা স্মার্ট ডড নামে এক নারী প্রথমবারের মতো বাবা দিবস পালনের উদ্যোগ নেন। তার নিজের বাবা ছিলেন একজন সিঙ্গেল পিতা, যিনি কঠিন পরিশ্রমে ছয় ভাইবোনকে বড় করেন।

    মা দিবসের মতো বাবা দিবসও থাকা উচিত—এই চিন্তা থেকেই ডড স্থানীয়ভাবে এ দিবসের প্রচলন শুরু করেন। পরে ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথমবারের মতো বাবা দিবস পালিত হয়।

    বাংলা সমাজে বাবারা সাধারণত নিজের কষ্ট প্রকাশ করেন না। সংসারের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভবিষ্যৎ—সবকিছুর দায়িত্ব নীরবে বহন করেন তারা।

    অনেক সময় নিজের চাহিদা ও স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের স্বপ্ন পূরণ করেন একজন বাবা। নিজের জন্য নতুন পোশাক না কিনে সন্তানের বই বা শিক্ষা নিশ্চিত করাই তাদের অগ্রাধিকার।

    আমাদের সমাজে বাবাদের আবেগ প্রকাশ প্রায়ই সীমিত। ছোটবেলা থেকেই পুরুষদের শেখানো হয়—তারা কাঁদবে না, দুর্বলতা দেখাবে না। ফলে বাবারা অনেক সময় নিজের কষ্ট নিজের মধ্যেই রেখে দেন।

    তবুও প্রতিদিনের দায়িত্ব, ত্যাগ আর পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা পরিবারের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন।

    বর্তমান সময়ে ব্যস্ততা ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে অনেক পরিবারেই যোগাযোগ কমে গেছে। ফলে বাবার নীরব উপস্থিতিও অনেক সময় অদৃশ্য হয়ে যায়।

    জীবনের শেষ পর্যায়ে অনেক বাবা একাকীত্বে ভোগেন। সন্তানদের ব্যস্ততা বাড়লেও সেই মানুষটি, যিনি একসময় পুরো পরিবারকে আগলে রেখেছিলেন, ধীরে ধীরে নীরব হয়ে যান।

    বিশ্ব বাবা দিবস কেবল শুভেচ্ছা জানানোর দিন নয়; এটি সম্পর্ককে নতুনভাবে উপলব্ধি করার দিন। বাবার ত্যাগ, ভালোবাসা ও দায়িত্বকে সম্মান জানানোর দিন।

    একটি ফোনকল, কিছু সময় পাশে বসে কথা বলা বা একটি ধন্যবাদ—এসবই একজন বাবার জন্য বড় উপহার হতে পারে।

    যাদের বাবা জীবিত আছেন, তারা আজ কিছু সময় তাদের সঙ্গে কাটাতে পারেন। আর যাদের বাবা নেই, তাদের জন্য দিনটি স্মৃতির আবেগে ভরা।

    বাবার ভালোবাসা হয়তো শব্দে প্রকাশ পায় না, কিন্তু প্রতিটি দায়িত্ব, পরিশ্রম ও ত্যাগের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে এক অনন্ত ভালোবাসার গল্প।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন