সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
Natun Kagoj

১১ দলীয় ঐক্যকে পরিকল্পিতভাবে কোণঠাসা করা হয়েছে: এলডিপি চেয়ারম্যান

১১ দলীয় ঐক্যকে পরিকল্পিতভাবে কোণঠাসা করা হয়েছে: এলডিপি চেয়ারম্যান
ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে। তার দাবি, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে গঠিত এই রাজনৈতিক ঐক্যকে বিভিন্ন কৌশল ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং জনদুর্ভোগ লাঘবসহ বিভিন্ন দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

অলি আহমদ বলেন, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্য, দারিদ্র্য, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থ ও নানা কৌশলের কারণে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, যারা ইসলামি মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সুশাসনের কথা বলেন, তাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উগ্রবাদী বা মৌলবাদী হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এতে জাতীয় রাজনীতিতে বিভাজন তৈরি হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক চর্চা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। এসব সমস্যার কারণে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে অলি আহমদ বলেন, জনগণ যে পরিবর্তনের প্রত্যাশায় ভোট দিয়েছে, তা কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নয়; বরং একটি জবাবদিহিমূলক, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য। এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করতে হবে যেখানে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, দেশে এখনো রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার প্রবণতা বিদ্যমান। দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার সময় এসেছে। অন্যথায় দেশের সংকট আরও গভীর হতে পারে।

বাংলাদেশের মানুষ একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র চায় উল্লেখ করে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

এছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসাইন এবং জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন