হরমুজ প্রণালি বন্ধের দাবি তেহরানের, সুইজারল্যান্ডে আলোচনায় ওয়াশিংটন

সুইজারল্যান্ডে নতুন করে শুরু হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা। পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
তবে আলোচনার আগে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালি নিয়ে। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
লেবানন সংঘাতকে কেন্দ্র করে নতুন টানাপোড়েন
ইরানের দাবি, লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি–সংক্রান্ত সমঝোতার লঙ্ঘন। এ কারণেই তারা কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানায় তেহরান।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা নেই।
আলোচনা শুরুতে অংশ নিচ্ছেন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি
শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দেন। আলোচনায় তিনি পারমাণবিক ইস্যু এবং লেবানন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান নিয়ে অগ্রগতির আশা প্রকাশ করেন।
ইরানের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একটি প্রতিনিধি দল সেখানে পৌঁছেছে। দলে রয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও আলোচনার উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশ নিতে পারেন বলে জানা গেছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছায়, যেখানে লেবানন পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ওই চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়।
তবে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। শনিবার লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন।
আইডিএফ দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং সংগঠনটির বহু সদস্যকে হত্যা করেছে। পাশাপাশি তাদের চার সেনাসদস্য নিহত হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিতর্ক
ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির শর্ত পূরণ না করায় তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এটি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সেন্টকম জানায়, শনিবারই অন্তত ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক রয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পরিবাহিত হয়। তাই এখানে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।