মেরিডিয়ান গ্রিন সিটি প্রকল্পে প্রতারণার অভিযোগ, উঠছে একাধিক প্রশ্ন

রাজধানী সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা “মেরিডিয়ান গ্রিন সিটি” নামের একটি আবাসন প্রকল্পকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে একাধিক অভিযোগ ও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগগুলোতে প্রকল্পটির মালিক ও পরিচালনা কার্যক্রম নিয়ে নানা অনিয়ম, প্রতারণা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিষয় সামনে এসেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার পূর্বে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন এবং পরবর্তীতে কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে যৌথভাবে একটি রিয়েল এস্টেট গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। তবে পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি আলাদা হয়ে “মেরিডিয়ান গ্রিন সিটি” নামে নতুন একটি প্রকল্প চালু করেন বলে জানা যায়।
এই মেরিডিয়ান গ্রীন সিটির আড়ালে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা লূটে নিচ্ছে চক্রটি।
সরকারি বাবে চক্রটির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্তা নেওয়ার কতা বলছেন ভূক্তোভূগীরা,
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রকল্পটির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সরকারি অনুমোদন বা বৈধ কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও সীমিত কিছু ডকুমেন্ট দেখিয়ে প্লট বিক্রির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়া অল্প সময়ের মধ্যে একাধিকবার অফিস স্থানান্তরের ঘটনাও ক্রেতাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রচারণামূলক ভিডিওতে সরকারি বা সিটি করপোরেশনের রাস্তা ও অবকাঠামোকে প্রকল্পের নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা বিভ্রান্তিকর তথ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হলো অস্বাভাবিক কম দামে প্লট বিক্রির প্রলোভন। স্থানীয়দের মতে, যে দামে প্লট বিক্রির কথা বলা হচ্ছে, সেই দামে ওই এলাকায় জমি ক্রয় করাই কঠিন। ফলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চেয়ে কাগজভিত্তিক প্লট বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহই মূল উদ্দেশ্য হতে পারে।
এছাড়া প্রকল্প এলাকায় জমির পরিমাণ বেশি দেখানোর জন্য অস্থায়ীভাবে সাইনবোর্ড স্থাপনের অভিযোগও উঠেছে। স্বল্প সময়ে এত বড় পরিমাণ জমি ক্রয় করা বাস্তবসম্মত নয় বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মেরিডিয়ান গ্রিন সিটি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমি বা ফ্ল্যাট ক্রয়ের আগে ক্রেতাদের উচিত সকল কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হওয়া এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সহায়তা নেওয়া।
এ বিষয়ে মেরিডিয়ান গ্রিন সিটির পরিচালনা পরিষদের সাথে একাধিক বার সংবাদের বক্তব্য জানতে ফোন দেওয়া হলেও তাদের পক্ষ থেকে কেন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।