ঈদ ব্যবস্থাপনা ও জনসেবার বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরলেন মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের তিন মাস পূর্তিতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, অল্প সময়ের মধ্যেই সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে জনগণ ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পেয়েছে।
সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের গত তিন মাসের কার্যক্রম এবং ঈদুল আজহা উপলক্ষে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
মাহদী আমিন বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিটি দিনই জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সুযোগ। সরকার জনগণের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশাসন ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।
শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী প্রসঙ্গ
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী পালনের বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি। মাহদী আমিন বলেন, এবারের কর্মসূচিতে রাষ্ট্রীয় প্রভাব বা প্রশাসনিক নির্দেশনার পরিবর্তে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তার মতে, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সম্পৃক্ততা একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন, যেখানে রাজনৈতিক কর্মসূচির সফলতা নির্ভর করে মানুষের সমর্থনের ওপর, প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর নয়।
ঈদকে কেন্দ্র করে ১০টি অগ্রাধিকার
মাহদী আমিন জানান, ঈদুল আজহাকে ঘিরে সরকার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিশেষ নজর দেয়। এর মধ্যে ছিল—
- নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা
- শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ
- দেশীয় পশুর বাজার সুরক্ষা
- দ্রুত বর্জ্য অপসারণ
- গণপরিবহনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা
- চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট দমন
- নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ
- জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা
- চামড়া খাতের ব্যবস্থাপনা
- নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা
ঈদযাত্রা ও শ্রমিকদের স্বস্তি
তিনি বলেন, ছুটি দীর্ঘায়িত করায় ঘরমুখো মানুষের চাপ একদিনে তৈরি হয়নি, ফলে মহাসড়কে যানজট তুলনামূলকভাবে কম ছিল। পাশাপাশি শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে সরকার, ব্যাংক ও মালিকপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কোরবানির পশু ও বাজার ব্যবস্থাপনা
দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পশু প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সরকারের তথ্যমতে, কোরবানিযোগ্য পশুর সরবরাহ চাহিদার চেয়ে বেশি ছিল, যা দেশের পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার ইঙ্গিত দেয়।
বর্জ্য অপসারণে বিশেষ উদ্যোগ
ঈদের দিন থেকেই সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অধিকাংশ এলাকায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন মাহদী আমিন।
তিনি আরও জানান, ঈদের পরদিন প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন।
গণপরিবহন, বিদ্যুৎ ও নিরাপত্তা
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করা হয়। একইসঙ্গে নারী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা চালু করা হয়।
তিনি বলেন, ছুটির সময় বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকায় লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেছে।
চামড়া শিল্প ও বাজার পরিস্থিতি
কাঁচা চামড়ার ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থার কারণে অতীতের তুলনায় চামড়া অবিক্রীত থাকার ঘটনা কমেছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে নজরদারি অব্যাহত রাখার কথাও জানান।
সরকারের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
সংবাদ সম্মেলনের শেষে মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যাগুলো রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। তবে জনগণের কল্যাণ, আইনের শাসন, সুশাসন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ চালিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি-১ জাহিদুল ইসলাম রনি, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোস্তফা জুলফিকার হাসান, মো. সুজন মাহমুদ, শাহাদত হোসেন স্বাধীন, আশরোফা ইমদাদ, কে এম নাজমুল হক, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার পামির উপস্থিত ছিলেন। প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ব্যক্তিগত কাজে লন্ডনে রয়েছেন বলে জানানো হয়।