‘মহিষ কিনলে গরু ফ্রি’ অফারেও জমেনি গাবতলীর হাট

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গরু ও মহিষ আসতে শুরু করেছে। তবে এখনো হাটে বেচাকেনা পুরোদমে শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাটে এখনো পর্যাপ্ত পশু উঠেনি। বেশিরভাগ জায়গায় বাঁশ-খুঁটি বসানোর কাজ চলছে। গরু আনা বিক্রেতারা পশুকে খাবার দেওয়া ও বিশ্রামের মধ্যেই সময় কাটাচ্ছেন।
কুষ্টিয়া থেকে দুইটি গরু নিয়ে আসা বিক্রেতা রমিজ উদ্দিন জানান, তিনি গরু দুটির দাম ১০ লাখ টাকা চেয়েছেন, তবে এখনো কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পাওয়া যায়নি। তার ভাষায়, “কেউ কেউ দাম জিজ্ঞেস করছে, তবে কেনার মতো এখনো কেউ আসেনি।”
একই জেলার আরেক বিক্রেতা আবুল হোসেন জানান, সকালে ২৬টি গরু এনেছেন এবং আরও অনেক গরু আনার প্রস্তুতি রয়েছে। তার মতে, “গরু আসছে, কিন্তু এখনো বাজার জমেনি। ঈদের আগে পরিস্থিতি বদলাবে বলে আশা করছি।”
বিক্রেতারা বলছেন, বর্তমানে যারা হাটে আসছেন তারা মূলত দাম যাচাই ও বাজার পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। পরিবহন ও পশুখাদ্যের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি নির্ধারণ করতে হচ্ছে বলেও জানান তারা। তবে ক্রেতাদের ধারণা, ঈদের আগ মুহূর্তে দাম কিছুটা কমতে পারে।
মেহেরপুর থেকে আসা হিরা ব্যাপারী জানান, তার খামারে থাকা ২৬টি গরু ইতোমধ্যে হাটে এসেছে এবং আরও ৮০টি গরু আনার প্রস্তুতি চলছে। ভালো বিক্রির আশা নিয়ে তিনি অপেক্ষায় আছেন।
চুয়াডাঙ্গা থেকে ১৫টি গরু নিয়ে আসা জিয়া ব্যাপারীও জানান, দূর পথ পাড়ি দিলেও এখনো বিক্রি শুরু হয়নি।
হাট ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ পশুই গত এক-দুই দিনের মধ্যে আনা হয়েছে। তবে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকায় বিক্রেতারা এখনো অপেক্ষার সময় পার করছেন।
জামালপুরের জাকারিয়া জানান, তিনি প্রায় ৮০টি গরু এনেছেন, কিন্তু এখনো বিক্রি শুরু না হওয়ায় কিছুটা হতাশা রয়েছে।
এদিকে কেরানীগঞ্জের লাকীচর এলাকা থেকে আনা প্রায় এক টন ওজনের একটি বিশাল মহিষ হাটে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এর দাম হাঁকা হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টাকা।
মহিষ বিক্রেতা মজিবুর রহমান জানান, খামার থেকে আনা ও পরিবহন খরচের কারণে দাম কিছুটা বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই মহিষের সঙ্গে দুই মণ ওজনের একটি সাদা গরু “ফ্রি” দেওয়া হবে, যা ক্রেতাদের বাড়তি আগ্রহ তৈরি করছে।