জরুরি বৈঠক ডাকলেন মোদি, দিল্লিতে থাকতে বলা হলো সব মন্ত্রীকে

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজধানী দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আহ্বান করেছেন। এ বৈঠককে ঘিরে সব কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে দিল্লিতে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার চলমান উত্তেজনা, এর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব এবং মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেল ৪টায় দিল্লির ‘সেবা তীর্থ’ কমপ্লেক্সে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদির সভাপতিত্বে আয়োজিত বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং অন্যান্য প্রতিমন্ত্রীরা অংশ নিতে পারেন।
‘সেবা তীর্থ’ হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নতুন প্রশাসনিক কমপ্লেক্স, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর রয়েছে।
মোদির সাম্প্রতিক বিদেশ সফর শেষে দেশে ফেরার পরপরই এই বৈঠক আয়োজন করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং তার প্রভাবে তেলের বাজার, জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতির মতো বিষয়গুলো বৈঠকের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে ভারতের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এ লক্ষ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের অনানুষ্ঠানিক মন্ত্রীসভা গ্রুপও গঠন করা হয়েছে। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ও জ্বালানিমন্ত্রী হারদীপ সিং পুরিও রয়েছেন।
সম্প্রতি রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, সরকার সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি ও এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে এখন পর্যন্ত বড় কোনো সংকট দেখা দেয়নি।
এদিকে আগামী ১০ জুন মোদি সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বর্ষপূর্তি সামনে রেখে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ ও রদবদলের গুঞ্জনও জোরালো হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসতে পারে।
সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও পারফরম্যান্স মূল্যায়ন শুরু করেছে বলেও জানা গেছে।