রামগঞ্জে জিয়া শপিং কমপ্লেক্স সংস্কারে লুটপাটের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত জিয়া শপিং কমপ্লেক্সে সংস্কারের নামে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
রাজনৈতিক প্রভাবে মূল নকশা পরিবর্তন, অডিটোরিয়াম উচ্ছেদ, পার্কিং দখল এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে চতুর্থ তলা নির্মাণের ফলে ভবনটিতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি দোকান ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকায় বরাদ্দ দেওয়া হলেও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে মাত্র ২ থেকে ৩ লাখ টাকা। এতে করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। একই সঙ্গে সংস্কারের নামে গাছ নিধন এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ধ্বংসের অভিযোগও উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার এবং রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এর প্রেক্ষিতে রামগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ পাঁচ দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৯ বছর পর ২০২২ সালে তৎকালীন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রয়াত মো. শাহজাহান ও তার ঘনিষ্ঠ কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা মিলে মার্কেটটির নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন। নিয়ম বহির্ভূতভাবে ‘রামগঞ্জ শপিং কমপ্লেক্স’ নামকরণ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া মার্কেটের তৃতীয় তলার অডিটোরিয়াম ভেঙে সেখানে ৮৬টি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনের নিরাপত্তা গেট, পার্কিং এলাকা, সিঁড়িঘর, লিফট রুম ও ওয়াশরুম পর্যন্ত দখল করে দোকান নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কেট ব্যবসা পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক জাকির হোসেন হেলাল বলেন, “মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত নকশা উপেক্ষা করে চতুর্থ তলার নির্মাণকাজ চলছে। সংস্কারের নামে গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এবং দোকান বরাদ্দে ব্যাপক দুর্নীতি করা হয়েছে।” একই অভিযোগ করেন কমিটির সদস্য মাসুদ আলম।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারাশিদ বিন এনাম জানান, “জেলা পরিষদ ভবনের নির্মাণ বা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে পৌরসভার অনুমতি নেওয়া হয়নি, যা বিধিবহির্ভূত।”
তবে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুন নাহার বলেন, “জিয়া শপিং কমপ্লেক্সের নাম পরিবর্তন হয়নি। অনিয়মের বিষয়ে আমার জানা নেই।”
এ ঘটনায় দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল।