ভুল চিকিৎসায় আঙুল হারালেন রোগী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ছলিমগঞ্জে অবস্থিত ফেমাস জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা, অবহেলা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, যথাযথ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার পরিচালনা করায় রোগীদের জীবন হুমকির মুখে পড়ছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনায়, থোল্লাকান্দি এলাকার বাসিন্দা মোছাম্মদ মিনা (৫০) ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে তার হাতের একটি আঙুল হারান। পরিবারের অভিযোগ, সড়ক দুর্ঘটনায় সামান্য আঘাত পাওয়ার পর তিনি ফেমাস জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সেখানে এক চিকিৎসক সেলাই করে চলে যাওয়ার পর অন্য চিকিৎসক প্রেসক্রিপশন দেন। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যে ক্ষতস্থানের অবনতি ঘটে। পরে ঢাকায় নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তার আঙুল কেটে ফেলতে বাধ্য হন।
শুধু এই একটি ঘটনাই নয়, হাসপাতালটিকে ঘিরে আরও একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। অ্যাপেন্ডিসাইটিসের রোগী ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। একইভাবে কানের ব্যথা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর অবস্থার অবনতি হয়ে শেষ পর্যন্ত তার কান অপসারণ করতে হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সুন্নতে খতনা ও সিজারিয়ান অপারেশনের সময়ও দুর্ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রমে চরম সমন্বয়হীনতা রয়েছে। এক চিকিৎসক রোগী দেখেন, অন্যজন প্রেসক্রিপশন লিখেন, আবার অন্য কেউ অস্ত্রোপচার করেন—এমন অভিযোগে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালে নিয়মিত মাত্র দু’জন চিকিৎসক সেবা দিচ্ছেন। তাদের একজন নিজেকে সার্জন হিসেবে পরিচয় দিলেও তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অপর চিকিৎসক দাবি করেছেন, তিনি শুধু প্রেসক্রিপশন দেন এবং সার্জারির সঙ্গে যুক্ত নন।
হাসপাতালের সাইনবোর্ডে ২৪ ঘণ্টা সেবা, সিজারিয়ান অপারেশন, হার্নিয়া, অ্যাপেন্ডিসাইটিস, পিত্তথলির পাথরসহ বিভিন্ন জটিল অপারেশনের কথা উল্লেখ থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ সপ্তাহে মাত্র একদিন রোগী দেখেন।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে সেবা দিচ্ছেন এবং দুর্ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক তদারকির অভাবেই এ ধরনের অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলছে এবং অনেক সময় অর্থের বিনিময়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়।
নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই কথা জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জনও।
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে হাসপাতালের অনিয়ম বন্ধ এবং নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।