ট্রেন দুর্ঘটনায় ইন্দোনেশিয়ায় অন্তত ১৪ জন নিহত

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। দাঁড়িয়ে থাকা একটি দূরপাল্লার ট্রেনকে একটি কমিউটার ট্রেন ধাক্কা দিলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তো দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম দ্য ডন বলছে, সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে সংঘর্ষের পর রাজধানীর পূর্বে বেকাসি তিমুর স্টেশনের কাছে প্রায় ১২ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে উদ্ধারকাজ শেষ হয়। জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার (বাসারনাস) প্রধান মোহাম্মদ স্যাফি মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আজ সকালে উদ্ধার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আমি নিশ্চিত, আর কোনও মরদেহ পাওয়া যাবে না।’
এদিকে বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী ট্রেন দুর্ঘটনার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। ২৯ বছর বয়সী সাউসান সারিফাহ ভাঙা হাত ও উরুতে গভীর আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম আমি মারা যাব’। তিনি জানান, সোমবার রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তার ট্রেনটি জাকার্তা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে বেকাসি তিমুর স্টেশনে থামে।
তার ভাষায়, ‘সবকিছু মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যায়। কমিউটার ট্রেনে দুইবার ঘোষণা হয়েছিল, সবাই নামার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। হঠাৎ খুব জোরে লোকোমোটিভের শব্দ শোনা যায়। নামার সময়ই পাওয়া যায়নি। সবাই একসঙ্গে চাপা পড়ে যায়। আমার নিচে থাকা লোকটির কী হয়েছে, জানি না।’
তিনি আরও বলেন, মানুষের ভিড়ে চাপা পড়ে দম বন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ভয় হচ্ছিল এবং তার আশঙ্কা, নিচে চাপা পড়া অনেকে হয়তো বেঁচে নেই। সৌভাগ্যবশত আমি ওপরের দিকে ছিলাম, তাই দ্রুত আমাকে উদ্ধার করা গেছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত রেল কোম্পানি কেএআই মঙ্গলবার জানায়, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জন দাঁড়িয়েছে। আরও ৮৪ জন চিকিৎসা নিয়েছেন, তবে কতজন হাসপাতালে আছেন তা জানানো হয়নি। কেএআইয়ের মুখপাত্র ফ্রানোটো উইবোও বলেন, লেভেল ক্রসিংয়ে একটি ট্যাক্সি কমিউটার ট্রেনটিকে ধাক্কা দিলে সেটি লাইনে থেমে যায়। এরপরই দূরপাল্লার ট্রেনটি এসে ধাক্কা দেয়।
দুর্ঘটনার পর স্টেশনে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। উদ্ধারকর্মীরা অক্সিজেন সিলিন্ডার চাইছিলেন, আর অ্যাম্বুলেন্সগুলো লাইন ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা এবং রেড ক্রস অংশ নেয়।
মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তো বেকাসির একটি হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন এবং বেকাসিতে একটি ওভারপাস নির্মাণেরও নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, ‘অনেক রেল ক্রসিংয়ে কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। এগুলো দ্রুত ঠিক করার নির্দেশ দিয়েছি, হয় গার্ড পোস্ট বসিয়ে, নয়তো ফ্লাইওভার নির্মাণ করতে হবে।’
উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ায় পরিবহন দুর্ঘটনা নতুন নয়। বিশাল এই দ্বীপরাষ্ট্রে বাস, ট্রেন ও বিমান অনেক সময় পুরোনো ও দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পশ্চিম জাভায় এক ট্রেন দুর্ঘটনায় চারজন ক্রু নিহত এবং প্রায় দুই ডজন মানুষ আহত হন।
এর আগে ২০১৫ সালে জাকার্তায় একটি লেভেল ক্রসিংয়ে কমিউটার ট্রেনের সঙ্গে একটি মিনিবাসের সংঘর্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছিলেন।
দৈএনকে/জে, আ