বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও এক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এবং সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ায় অপরিশোধিত তেলের বাজারে এই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল, ২০২৬) আন্তর্জাতিক বাজারে জুন মাসে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ১০৯.৪২ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে গত সেশনেও এর দাম ২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা টানা সপ্তম দিনের মতো ঊর্ধ্বগতির রেকর্ড।
অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম জুন ডেলিভারির জন্য ব্যারেল প্রতি ৫৮ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ বেড়ে ৯৬.৯৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তেলের বাজারের এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা। হোয়াইট হাউস স্পষ্ট জানিয়েছে যে, তারা ইরানের সঙ্গে চলমান স্পর্শকাতর কূটনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে কোনো আলোচনা বা দরকষাকষি করতে আগ্রহী নয়।
হোয়াইট হাউসের সহকারী প্রেস সেক্রেটারি অলিভিয়া ওয়েলস এক বিবৃতিতে বলেন, "প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। যুক্তরাষ্ট্র এই আলোচনার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখেছে। আমেরিকান জনগণের স্বার্থ এবং ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে—এই দুটি বিষয় নিশ্চিত না করে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে না ওয়াশিংটন।"
কূটনৈতিক স্থবিরতার কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বা আলোচনা পুরোপুরি ভেস্তে যায়, তবে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।