সংগ্রাম পেরিয়ে সাফল্যের শীর্ষে সামান্থা

দক্ষিণ ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি সাধারণত পুরুষশাসিত হিসেবে পরিচিত হলেও, সেখানে নিজের অভিনয় দক্ষতা, স্টারডম আর ব্যক্তিত্ব দিয়ে এক স্বতন্ত্র সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন সামান্থা রুথ প্রভু। কেবল শোভাবর্ধনকারী নায়িকা হিসেবে নয়, বরং ছবির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। আজ তাঁর জন্মদিন। ১৯৮৭ সালের ২৮ এপ্রিল কেরালায় জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রীর জীবনকাহিনি যেন কোনো সিনেমার চেয়ে কম রোমাঞ্চকর নয়।
আর্থিক সংকট থেকে রুপালি জগৎ
চেন্নাইয়ে বেড়ে ওঠা সামান্থার পারিবারিক নাম সামান্থা রুথ প্রভু হলেও প্রিয়জনদের কাছে তিনি ‘যশোদা’। মাত্র ২০ বছর বয়সে পারিবারিক আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে পকেটমানি জোগাতে পার্টটাইম কাজ শুরু করেন তিনি। সেই সূত্রেই মডেলিংয়ে আসা এবং পরিচালক রবি বর্মনের নজরে পড়া। ২০১০ সালে গৌতম মেননের ‘ইয়ে মায়া চেসাভে’ ছবির মাধ্যমে অভিষেক ঘটে তাঁর, যেখানে সহ-অভিনেতা ছিলেন নাগা চৈতন্য।
ক্যারিয়ারের মাইলফলক ও ‘ইগা’ ম্যাজিক
শুরুটা দুর্দান্ত হলেও ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় ২০১২ সালে এস এস রাজমৌলির বিখ্যাত ছবি ‘ইগা’ (হিন্দিতে মাক্ষি) দিয়ে। ন্যানি ও সুদীপের বিপরীতে তাঁর সাবলীল অভিনয় সামান্থাকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেয়। এরপর পবন কল্যাণ, মহেশ বাবু, আল্লু অর্জুন থেকে শুরু করে বিজয় দেবরাকোন্ডা—ইন্ডাস্ট্রির প্রায় সব শীর্ষ নায়কের সাথেই ব্লকবাস্টার জুটি উপহার দিয়েছেন তিনি।
অসুস্থতা ও লড়াকু প্রত্যাবর্তন
সাফল্যের মাঝেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল শারীরিক অসুস্থতা। ২০১০ সালে ইমিউনিটি ডিসঅর্ডারের জটিলতায় পড়ে দুই মাসের বিরতি নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে দমে যাওয়ার পাত্রী তিনি নন; প্রবল ইচ্ছাশক্তি নিয়ে আবারও ফিরে আসেন রুপালি পর্দায়। কেবল অভিনয় নয়, ফিটনেস সচেতন সামান্থা খেতে ও ঘুরতে ভালোবাসেন। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিজের এনজিওর মাধ্যমে সামাজিক কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
ভাঙলেন সামাজিক সংস্কারের বেড়াজাল
উপমহাদেশের অভিনেত্রীরা বিয়ের পর হারিয়ে যান—এই প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন সামান্থা। ২০১৭ সালে নাগা চৈতন্যের সাথে বিয়ের পর তাঁর অভিনীত ছবির প্রায় ৮০ শতাংশই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে। বিশেষ করে ‘মাজিলি’ ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচক মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। ক্যারিয়ারের শো-কেসে চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার তাঁর সাফল্যের সাক্ষ্য দেয়।
জীবনযুদ্ধ ও অবিচল সামান্থা
ব্যক্তিগত জীবনে অনেক চড়াই-উতরাই এসেছে। নাগা চৈতন্যের সাথে সংসার ভেঙেছে, জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হয়েছে। কিন্তু এত কিছুর মাঝেও সামান্থা হারিয়ে যাননি। বরং প্রতিটি ধাক্কাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে নিজেকে আরও বেশি পরিণত করেছেন। হলিউড অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্নকে আদর্শ মানা এই অভিনেত্রী আজও তাঁর এক্সপ্রেশন আর অভিনয়ের আবেদনে কোটি ভক্তের হৃদয়ে রাজত্ব করছেন।