ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নতুন জটিলতা

ইরানের দেওয়া যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমঝোতার প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা। তবে সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি ট্রাম্প প্রশাসন গ্রহণ না করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরানের প্রস্তাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সন্তুষ্ট নন। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুর সমাধান ছাড়াই শুধুমাত্র হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার শর্ত যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগতভাবে দুর্বল করবে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা এবং পারমাণবিক আলোচনা পরবর্তী পর্যায়ে স্থগিত রাখার বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে এবং হরমুজে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে ইরানও প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এ শর্তগুলো আগে মেনে নিলে পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দরকষাকষির সক্ষমতা কমে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরান চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী হলেও তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ বন্ধ করাই যেকোনো সমঝোতার মূল শর্ত হতে হবে।
এদিকে আলোচনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধের অংশ হিসেবে ইরানের একটি তেলের ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও জ্বালানি সংকট আরও তীব্র করতে পারে।
অন্যদিকে জাতিসংঘের সমুদ্র আইন মানতে ইরান বাধ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থায় নিযুক্ত দেশটির স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাইদ ইরাভানি। তিনি হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের অবস্থানকে সমর্থন করে বলেন, এটি ইরানের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের অংশ।
ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। ফ্রান্সের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ইরানকে বড় ছাড় দিতে হবে।
এদিকে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস মন্তব্য করেছেন, চলমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিকভাবে চাপে রয়েছে এবং সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার স্পষ্ট কোনো পথ ওয়াশিংটনের হাতে নেই।
দৈএনকে/জে, আ