রেলের জমি লিজ নিয়েও বুঝে পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠান

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম এসআরভি স্টেশন এলাকায় পরিত্যক্ত রেলজমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল ও অনিয়মের অভিযোগে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, দীর্ঘ সময় রেলগাড়ি চলাচল কমে যাওয়ায় স্টেশন এলাকা কিছু অসাধু চক্রের দখলে চলে যায়, যেখানে মাদক ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ১৭–১৮ বছর ধরে লোকবল সংকটের সুযোগে একটি চক্র স্টেশনের আশপাশে জাহাজ থেকে আনা চোরাই যন্ত্রাংশ ও তেলসহ বিভিন্ন পণ্য অবৈধভাবে খালাস করে আসছে। এতে পরিবেশ দূষণসহ রেল সম্পত্তির ক্ষতি হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান। নিরাপত্তা পর্যাপ্ত না থাকায় এসব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, পরবর্তীতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে এবং রেল বিধিমালা অনুসরণ করে উৎস ট্রেডিং এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৪৫০০ বর্গফুট জমি অস্থায়ী ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি নিয়ম অনুযায়ী অগ্রিম রাজস্ব পরিশোধ করলেও পরবর্তীতে ওই জমিতে দখল নিয়ে জটিলতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক এস এম মুসাব্বির অভিযোগ করেন, তিনি নিয়মিতভাবে সরকারের রাজস্ব পরিশোধ করলেও জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ও নিরাপত্তা কর্মীদের বিরুদ্ধে দখল ও অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, স্টেশন এলাকার অবৈধ দখল উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার পক্ষ থেকে নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে প্রকৃত লিজগ্রহীতাকে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।