দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ৭ দিনের ছুটি

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় মাধ্যমিক ও প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা ১৮ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা সাত দিন ছুটি পাবেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সংশোধিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৮ অক্টোবর রোববার থেকে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার হওয়ায় সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে পূজার ছুটি মিলিয়ে টানা সাত দিনের অবকাশ তৈরি হচ্ছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকাতেও ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজার পাঁচ দিনের ছুটি রাখা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরাও একইভাবে ১৮ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি পাবেন।
এদিকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও কয়েক দিনের ছুটির সুযোগ থাকছে। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি থাকবে।
এর আগে ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী ও ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। এ দুই দিনের ঐচ্ছিক ছুটির সঙ্গে ২০ ও ২১ অক্টোবরের সরকারি ছুটি যুক্ত হলে তারা টানা চার দিনের ছুটি পেতে পারেন। এরপর ২২ অক্টোবর ছুটি নিলে ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটিও এর সঙ্গে যুক্ত হবে। ফলে সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে টানা সাত দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে এ সুবিধা সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য প্রযোজ্য নয়। ঐচ্ছিক ছুটি শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য। অন্যরা দুর্গাপূজা উপলক্ষে নির্ধারিত সরকারি ছুটিই ভোগ করবেন।
দুর্গাপূজার সরকারি ছুটিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও সাধারণত বন্ধ থাকবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কিছু শাখা বা নির্দিষ্ট ব্যাংকিং সেবা চালু রাখা হতে পারে। এটিএম, কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল সেবাগুলোও সাধারণত চালু থাকে।
হাসপাতাল, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহের মতো জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের অবশ্য ছুটির দিনেও দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। জনসেবা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মীদের দায়িত্বে রাখবে। গণমাধ্যমসহ অন্যান্য জরুরি সেবার ক্ষেত্রেও প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা থাকতে পারে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থার ছুটির সময় নিজস্ব নীতিমালা ও ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। ফলে সরকারি ছুটির সঙ্গে সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ছুটি একই নাও হতে পারে।
উল্লেখ্য, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ২০ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির তালিকা সংশোধন করেছে। সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের ছুটির তারিখ পরিবর্তন করা হলেও দুর্গাপূজার ছুটির সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।