মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

লক্ষ্মীপুরে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ রূপে

লক্ষ্মীপুরে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ রূপে
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

লক্ষ্মীপুর জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান সত্ত্বেও পরিস্থিতি দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে অন্তত ৪২ জন ‘গডফাদার’, যাদের প্রভাবে বাড়ছে হত্যা, সহিংসতা ও সামাজিক অবক্ষয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এদের মধ্যে ৮ জন শীর্ষ গডফাদার, ১৩ জন পাইকারি এবং ১৯ জন খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় ৫৪৫টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ১১৬টি মামলা দায়ের এবং ১২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে বেরিয়ে আবার মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা, মদসহ নগদ অর্থ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপের পরও মাদকের বিস্তার থামানো যাচ্ছে না।

সাম্প্রতিক সময়ে মাদক সংশ্লিষ্ট সহিংসতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত আট মাসে মাদকাসক্তদের হাতে অন্তত ৯টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে—ছেলের হাতে মা, স্বামীর হাতে স্ত্রী এবং বন্ধুর হাতে বন্ধু হত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনা।

এছাড়া ডাকাতি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও পারিবারিক সহিংসতা বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। মাদকাসক্তরা নেশার টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক মদদ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের সঙ্গে সমঝোতার কারণেই মাদক ব্যবসায়ীরা বারবার আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছে।

চরপাতা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন কবিরাজ বলেন, “গ্রাম পর্যায়েও এখন ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজা সহজলভ্য। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চুক্তি করে রাস্তায় মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে, এমনকি বিকাশের মাধ্যমে লেনদেনও হচ্ছে।”

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন গ্রামে রিকশা, মোটরসাইকেল কিংবা ফেরি করে মাদক বিক্রি হচ্ছে। এতে তরুণ সমাজ দ্রুত নেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা পরিবার ও সমাজে অস্থিরতা তৈরি করছে।

এদিকে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও মাদকের কারণে পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। বক্তারা বলেন, শুধু অভিযান নয়—রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন জানান, “মাদকের ব্যবহার কিছুটা বেড়েছে। আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি, পাশাপাশি সচেতনতা কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।”

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবু তারেক বলেন, “মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়াতে হবে। পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে, তবে সমাজের সর্বস্তরের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

সচেতন মহলের মতে, আইনের কঠোর প্রয়োগ, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সামাজিক আন্দোলনের সমন্বয় ছাড়া লক্ষ্মীপুরকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন