মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

মঙ্গল শোভাযাত্রায় প্রাণের উচ্ছ্বাসে লক্ষ্মীপুরে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

মঙ্গল শোভাযাত্রায় প্রাণের উচ্ছ্বাসে লক্ষ্মীপুরে পহেলা বৈশাখ উদযাপন
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা ও তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলার মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে লক্ষ্মীপুরবাসী। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গ্রামীণ খেলাধুলা ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যের মেলা।

সোমবার (১৪ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে বের হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। শোভাযাত্রায় ছিল গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতীক নানান মুখোশ, পাখি-প্রাণীর প্রতিরূপ ও লোকজ উপকরণ, যা নতুন বছরকে বরণ করার আনন্দকে আরও বর্ণিল করে তোলে।

শোভাযাত্রা শেষে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলা। মেলায় স্থান পেয়েছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপকরণ—মাটির তৈরি তৈজসপত্র, বাঁশ ও বেতের সামগ্রী, কাঠের খেলনা, হাতের তৈরি অলংকারসহ বিভিন্ন পণ্য। তবে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঐতিহ্যবাহী মাটির পণ্যের চাহিদা কিছুটা কমে গেছে বলে জানান বিক্রেতারা।

মেলায় আসা কুমোরপাড়ার কারিগররা জানান, আগে মাটির হাঁড়ি-পাতিল, কলস ও তৈজসপত্রের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও এখন প্লাস্টিক ও মেলামাইনের সহজলভ্যতার কারণে সেই বাজার অনেকটাই হারিয়ে গেছে। তবুও শিশুদের মধ্যে মাটির পুতুল ও ছোট ছোট হাঁড়িপাতিলের প্রতি আগ্রহ এখনও রয়েছে, যা কিছুটা হলেও তাদের আশাবাদী করে।

একজন কারিগর বলেন, “আগে সারাবছর যা বিক্রি হতো, এখন বৈশাখের মেলা ছাড়া তেমন বিক্রি হয় না। আমরা এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহযোগিতা চাই।”

মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, লোকজ মেলা তাদের শিকড়ের সঙ্গে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে এসব ঐতিহ্য তুলে ধরার জন্য এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে মেলার পাশাপাশি চলছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় গান, নৃত্য ও নাটকের মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হচ্ছে। এছাড়া আয়োজন করা হয়েছে গ্রামীণ খেলাধুলা, পিঠা উৎসব ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

সবমিলিয়ে উৎসবের আমেজে ভরপুর লক্ষ্মীপুরে নববর্ষের এই আয়োজন মানুষের মাঝে আনন্দ, সম্প্রীতি ও বাঙালির ঐতিহ্যের প্রতি নতুন করে ভালোবাসা জাগিয়ে তুলেছে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন