মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

লক্ষ্মীপুর সদর ভেঙে নতুন উপজেলা ‘চন্দ্রগঞ্জ’, চূড়ান্ত ধাপে সরকারি প্রক্রিয়া

লক্ষ্মীপুর সদর ভেঙে নতুন উপজেলা ‘চন্দ্রগঞ্জ’, চূড়ান্ত ধাপে সরকারি প্রক্রিয়া
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

লক্ষ্মীপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে বড় অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। জেলার বৃহৎ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা বিভক্ত করে ‘চন্দ্রগঞ্জ’ নামে নতুন একটি উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (প্রাক-নিকার) বৈঠকে এ প্রস্তাবটি আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এতে করে বহুদিনের দাবির বাস্তবায়ন নিয়ে জেলাজুড়ে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

প্রস্তাবিত মানচিত্র অনুযায়ী, নতুন চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের পাশাপাশি দত্তপাড়া, উত্তর জয়পুর, হাজীরপাড়া, দিঘলী, মান্দারী, কুশাখালী, চরশাহী ও বশিকপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রহমতখালী খাল ও ফরিদার নদীবেষ্টিত এ অঞ্চল বাণিজ্যিক দিক থেকেও বেশ সমৃদ্ধ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশাল আয়তনের কারণে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দূরবর্তী এলাকার মানুষকে প্রশাসনিক সেবা পেতে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে চন্দ্রগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জেলা শহরে যাতায়াতে সময় ও খরচ দুটোই বেশি লাগে।

অন্যদিকে বশিকপুর ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ বলেছেন ভিন্ন কথা। স্থানীয়রা বাসিন্দারা জানান এই ইউনিয়ন সদর উপজেলার মধ্যে অবস্থান। তারা সদর উপজেলায় থাকার দাবি জানান। তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বশিকপুর ইউনিয়নেই থাকতে চান।অন্যথায় তারা আন্দোলনে নামবেন।

চন্দ্রগঞ্জের প্রবীণ বাসিন্দা আলহাজ্ব আবদুর রহমান বলেন, “চন্দ্রগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এখানে থানা ও বড় বাজার রয়েছে। উপজেলা হলে সাধারণ মানুষ ঘরের কাছেই প্রয়োজনীয় সেবা পাবে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। তবে নতুন উপজেলা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অবকাঠামো উন্নয়ন, দপ্তর স্থাপন এবং জনবল নিয়োগ বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে।

স্থানীয় রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, নতুন উপজেলা বাস্তবায়িত হলে চন্দ্রগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

এদিকে, এলাকাবাসীর এখন একটাই প্রত্যাশা—দীর্ঘদিনের এই দাবি যেন দ্রুত বাস্তব রূপ পায়। সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন