লক্ষ্মীপুরে প্রাথমিক শিক্ষায় মহা হাহাকার, শতাধিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট

লক্ষ্মীপুর জেলার সরকারি প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় জেলার শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে পাঠদানের মান কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় অন্তত ২৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। শুধু শিক্ষক সংকটই নয়, উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা কর্মকর্তাদের একাধিক পদও খালি পড়ে আছে। ফলে বিদ্যালয় পরিচালনা ও তদারকিতে দেখা দিয়েছে গুরুতর সমস্যা।
সবচেয়ে বেশি সংকট বিরাজ করছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায়। এখানে ১০৯টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক এবং ৭০টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ৯টি পদ খালি।
রামগঞ্জ উপজেলায় ৭৪টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও ৩৩টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদগুলোও দীর্ঘদিন ধরে পূরণ হয়নি।
রামগতি উপজেলায় ৪৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও ২৩টি সহকারী শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। এছাড়া রায়পুর ও কমলনগর উপজেলাতেও কয়েক ডজন বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
দীর্ঘদিন পদ শূন্য থাকায় অনেক সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে একদিকে প্রশাসনিক চাপ, অন্যদিকে পাঠদান—দুই দিক সামলাতে গিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছেন।
রায়পুর উপজেলার একাধিক শিক্ষক জানান, বছরের পর বছর ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় কাজের গতি কমে যাচ্ছে এবং শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শিক্ষক নেতারা বলছেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে। ক্লাসের সময়সূচি ও পাঠদানের ধারাবাহিকতায় বিঘ্ন ঘটছে, যা সরাসরি শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান, বিধি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকের ৬৫ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ৩৫ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের কথা। তবে মামলাজট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ কারণেই শূন্য পদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শূন্য পদের বিষয়টি নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হচ্ছে। সরকার ঘোষিত ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার আওতায় দ্রুত নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রম সম্পন্ন হলে এই সংকট নিরসন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে লক্ষ্মীপুরের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা আরও বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। তাই শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে শূন্য পদ পূরণের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।