লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ সম্মেলনে জেলার কবি-লেখক, সাহিত্যপ্রেমী ও সংস্কৃতিকর্মীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় অনুষ্ঠানস্থল।
সাহিত্য সংসদের সভাপতি ডা. মো. সালাহউদ্দিন শরীফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ‘আঞ্চলিক সাহিত্য সংগঠন এবং সাহিত্য আন্দোলন’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গাজী গিয়াস উদ্দিন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও বিশিষ্ট লেখক ইয়াসমিন সুলতানা। উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও কবি আসাদ কাজল।
আলোচনা পর্বে অংশ নেন মানবাধিকার নেতা শামছুল করিম খোকন, অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম তপন, জেলা কালচারাল অফিসার মনিরুজ্জামান মনির, সাহিত্য সংসদের সহ-সভাপতি মোরশেদ আলম হাওলাদার, জেলা জাসাস সভাপতি ড্যানি চৌধুরী এবং মাহবুবুর রশীদ চৌধুরী। বক্তারা আঞ্চলিক সাহিত্যচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে নতুন প্রজন্মকে সাহিত্যচর্চায় উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সাহিত্য সংসদ সম্মাননা প্রদান করা হয়। কবিতায় ছড়াকার আলম হোসেন, নাট্য গবেষণায় ড. বাবুল বিশ্বাস, প্রবন্ধে মুহাম্মদ ফরিদ হাসান, অনুবাদে মাইনুল ইসলাম মানিক, সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনায় চট্টগ্রামের ‘আন্দরকিল্লা’ সম্পাদক মুহম্মদ নুরুল আবসার এবং আবৃত্তিতে মলিনা মজুমদার সম্মাননা লাভ করেন।
এছাড়া ‘বাংলা আওয়াজ’ লেখক সম্মাননা পান কবিতায় কবি আযাদ কামাল ও বকুল আক্তার দরিয়া। সাংবাদিক সাহিত্যিক সানাউল্লাহ নূরী সাহিত্য সম্মাননা পান কথাশিল্পী নিমগ্ন দুপুর। কবি মুস্তাফিজুর রহমান সাহিত্য সম্মাননা লাভ করেন সংগীত সাধনায় মাহবুবুল বাসার।
জেলার বর্ষসেরা কবি হিসেবে সম্মাননা পান কবি সালেহা খানম ও ফারিয়ান তাহরীম। অনুষ্ঠানে ১৩ জন কবি-লেখককে সম্মাননা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাহিত্য কুইজ, স্বরচিত কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এবং বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
সম্মেলনে সঞ্চালনায় ছিলেন শিমু চৌধুরী ও ফখরুল ইসলাম। সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন তাইফুল ইসলাম এবং উপস্থিত কবিরা কবিতা আবৃত্তি করে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকরা জানান, এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং জেলার সাহিত্যচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করতে তারা কাজ করে যাবেন।