কমলনগরে শ্রমিককে বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মো. কালু নামে এক ইটভাটার শ্রমিককে দোকানঘরের আঁড়ার সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ছড়িয়ে পড়া ৬ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ইসমাইল হোসেন নামে এক মাঝি লাঠি দিয়ে কালুকে বেধড়ক পেটাচ্ছেন এবং বিভিন্ন কথা জোর করে বলাচ্ছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের মৌলভিরহাট এলাকার স্লুইসগেট সংলগ্ন একটি দোকানঘরে এ ঘটনা ঘটে। ভিডিওতে কালুর দুই হাত দড়ি দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা অবস্থায় তাকে মারধর করতে দেখা যায়। এ সময় ইসমাইল মাঝির নির্দেশে কালুকে বিভিন্ন কথা বারবার বলতে বাধ্য করা হয়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে কালুকে দিয়ে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার প্রতিশ্রুতিও নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী কালু কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরবসু বাদামতলী বাজার এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের একটি ইটভাটায় কাজ করার জন্য ৮০ হাজার টাকায় ইসমাইলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন কালু। পরে অসুস্থতার কারণে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন এবং শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ইসমাইল তার লোকজন দিয়ে কালুকে ধরে এনে নির্যাতন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, নির্যাতনের পর কালুর কাছ থেকে তার ভাইদের দিয়ে কাজ করানোর প্রতিশ্রুতি আদায় করা হয় এবং সাদা কাগজে মুচলেকা নেওয়া হয়। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
কালু জানান, “ইসমাইল মাঝি আমাকে ধরে এনে হাত বেঁধে মারধর করে। পরে বাড়িতে খবর দিয়ে এক লাখ টাকা আনতে বলে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে। মাঝি পালিয়ে গেছে।”
তবে অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন দাবি করেছেন, কালুকে কাজের জন্য টাকা দেওয়া হলেও তিনি নিয়মিত কাজ করছিলেন না। “ভয় দেখানোর জন্য সামান্য কয়েকটি বেত্রাঘাত করা হয়েছে,” বলেন তিনি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।