মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম

শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলা: দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড

শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলা: দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড
ছবি : সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। উভয় আসামিই গ্রেপ্তার আছেন।

আগে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ট্রাইব্যুনালের রায়ের পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলায় মোট ৩০ জন আসামি রয়েছে, এর মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার আছেন। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী। বাকি ২৪ জন পলাতক।

পলাতকদের মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদ, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল, সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমান, নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া সহ অন্যান্য প্রাক্তন কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগ নেতারা।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশি গুলিতে আবু সাঈদ নিহত হন। হত্যাকাণ্ডের ভিডিও প্রকাশিত হলে দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং পুলিশ তার বুকে একের পর এক গুলি করে।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে গত বছরের ২৪ জুন দাখিল করা হয়। ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ১৪ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় এবং ২৭ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। রায় শিক্ষাঙ্গনে দমন ও নিপীড়ন প্রতিরোধে ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন