দৃষ্টির রক্ষা এবং পরকালীন মুক্তি: মহানবীর (সা.) অমর শিক্ষা

মানুষের চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা রোধে ইসলামে ‘দৃষ্টির হেফাজত’ বা দৃষ্টি নিচু রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের বিভিন্ন স্থানে পরনারী বা বেগানা নারীর প্রতি কুদৃষ্টি দেওয়ার ভয়াবহতা এবং এর বিপরীতে দৃষ্টি সংযত রাখার অসামান্য পুরস্কারের কথা বর্ণিত হয়েছে। সম্প্রতি বিশিষ্ট মুহাদ্দিসগণের সংকলিত হাদিস গ্রন্থ ‘আত-তারগীব ওয়াত তারহীব’-এর একটি বর্ণনা মুমিন হৃদয়ে আশার আলো সঞ্চার করছে।
জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির গ্যারান্টি
বিখ্যাত হাদিস বিশারদ ইমাম মুনযিরী (রহ.) তাঁর সংকলিত ‘আত-তারগীব’ গ্রন্থের ৪৭১৩ নম্বর হাদিসে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী সুসংবাদ উল্লেখ করেছেন। সেখানে বর্ণিত হয়েছে—রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ঘোষণা অনুযায়ী, যে পুরুষ কোনো বেগানা (অপরিচিত/অবিবাহযোগ্য) নারী দেখে নিজের দৃষ্টি নিচু করে চলে এবং আল্লাহর ভয়ে প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে, কিয়ামতের কঠিন দিনে জাহান্নামের আগুন তাকে স্পর্শ করবে না।
দৃষ্টির পবিত্রতা ও ঈমানি স্বাদ
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, চোখ হলো অন্তরের দর্পণ। চোখ যখন নিষিদ্ধ কিছু দেখে, তখন অন্তরে তার কুপ্রভাব পড়ে। হাদিসে এসেছে, দৃষ্টি হলো শয়তানের বিষাক্ত তীরের একটি। যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে এই দৃষ্টিকে সংযত রাখে, আল্লাহ তার অন্তরে এমন এক ঈমানি মিষ্টতা বা স্বাদ দান করেন, যা সে ইবাদতের মাধ্যমে অনুভব করতে পারে।
আধুনিক যুগে এই আমলের গুরুত্ব
বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে যেখানে প্রতিনিয়ত অশ্লীলতা চোখের সামনে ভেসে উঠছে, সেখানে এই আমলটি অত্যন্ত কঠিন কিন্তু অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। মনোবিজ্ঞানীরাও স্বীকার করেছেন যে, অসংযত দৃষ্টি মানুষের মানসিক প্রশান্তি নষ্ট করে এবং পারিবারিক জীবনে অশান্তি ডেকে আনে। ইসলাম এই অশান্তি থেকে বাঁচতে পুরুষ ও নারী উভয়কেই নিজ নিজ দৃষ্টি অবনত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার জন্য কেবল ইবাদত-বন্দেগিই যথেষ্ট নয়, বরং নিষিদ্ধ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখাও বড় ইবাদত। পরনারী দেখে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়ার এই ছোট আমলটিই হতে পারে কিয়ামতের ভয়াবহ দিনে নাজাতের উসিলা।
দৈএনকে/জে, আ