চাঁদপুরে তেলের তীব্র সংকট, পাম্পে মিলছে মাত্র ২ লিটার তেল

চাঁদপুর জেলার ৮টি উপজেলার নিবন্ধিত ১৫টি ফিলিং স্টেশনে এখন এক অন্যরকম হাহাকার। বৈধ পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য তপ্ত রোদে ‘তীর্থের কাকের’ মতো অপেক্ষা করছেন শত শত মোটরসাইকেল চালক। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পর মিলছে মাত্র ২০০ টাকার তেল, কোথাও বা কপালে জুটছে কেবল ‘অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি বন্ধ’ লেখা সাইনবোর্ড।
রবিবার (২৯ মার্চ) শহর ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জেলা পরিষদ সংলগ্ন শারমিন ফিলিং স্টেশনে টানা দুই দিন ধরে জ্বালানি বিক্রি বন্ধ। কোনো কোনো পাম্পে দিনের বেলা তেল মিললেও রাত হতেই রহস্যজনকভাবে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অথচ শহরের ওয়ারলেস বাজার এলাকায় ভিন্ন চিত্র। সেখানে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্ষুদ্র দোকানিরা প্রকাশ্যে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা লিটার দরে অকটেন বিক্রি করছেন। তারা অকপটে স্বীকার করছেন, ডিপো ও ফিলিং স্টেশনের সাথে সুসম্পর্ক থাকায় গভীর রাতে তারা তেল সংগ্রহ করে চড়া দামে বিক্রি করছেন।
এদিকে আমির হোসেন অ্যান্ড কোম্পানি ফিলিং স্টেশনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তেলের ‘রেশনিং’ শুরু করেছে। প্রতি মোটরসাইকেলের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২ লিটার তেল। পাম্প ম্যানেজার কামাল হোসেনের দাবি— দেশজুড়ে তেলের সংকট চলছে।
পাম্প মালিকদের ‘সংকট’ দাবিকে সরাসরি 'ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) পদ্মা অয়েল কোম্পানির ডিপো ইনচার্জ লোকমান হোসেন। তিনি জানান, ডিপোতে তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। যারা কৃত্রিম অভাব তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদউদ্দিন এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, "চাঁদপুরের তিনটি প্রধান ডিপো থেকে ৫ জেলায় তেল সরবরাহ করা হয়। প্রতিটি স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত নিয়মের বাইরে গিয়ে কেউ তেল আটকে রাখলে বা অযৌক্তিক রেশনিং করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
পুলিশ সুপার রবিউল হাসান সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ বা বেশি দামে বিক্রির কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে তা পুলিশকে জানান। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রেখে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
একদিকে প্রশাসনের নজরদারি, অন্যদিকে পাম্পগুলোর সংকটের অজুহাত— এই দুইয়ের মাঝখানে পড়ে সাধারণ চালকদের পকেট কাটছে এক শ্রেণির অসাধু চক্র। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট ও ট্যাগ অফিসারদের তৎপরতা এই ‘কৃত্রিম সংকট’ কাটাতে কতটা কার্যকর হয়।