মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

লক্ষ্মীপুরে ৯২ অভিযান: ২০৬ মামলা, জরিমানা ১২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা

লক্ষ্মীপুরে ৯২ অভিযান: ২০৬ মামলা, জরিমানা ১২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

অসাধু ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা ঠেকাতে লক্ষ্মীপুরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে নিয়মিত বাজার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে জরিমানা ও সতর্কতার পরও বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন সাধারণ ভোক্তারা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি রমজান মাসে ১ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত জেলাজুড়ে মোট ৯২টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ২০৬টি মামলায় ২৪ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১২ লাখ ৮৫ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

সম্প্রতি রায়পুর, রামগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন মার্কেট, মুদি দোকান এবং কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, অতিরিক্ত মুনাফা ও নানা ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। অনেক ব্যবসায়ী আইন-কানুন মানতে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা শিক্ষক, সাংবাদিক, কৃষক ও সাধারণ ক্রেতারা বলেন, দেশে এমন কোনো খাত নেই যেখানে অসাধু ব্যবসায়ীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেনি। ভোক্তারা যেন তাদের কাছে বন্দি হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি বলে তারা মনে করেন।

ভোক্তাদের অভিযোগ, বর্তমান কাঠামোতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভোক্তাদের অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ছাড়া সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগও সীমিত।

তারা দীর্ঘদিন ধরে স্বতন্ত্র ‘ভোক্তা মন্ত্রণালয়’ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছেন। প্রয়োজনে এই দাবিতে আন্দোলনে যাওয়ার কথাও জানান অনেক ভোক্তা। আপাতত ‘ভোক্তা অধিকার বিভাগ’ গঠন করা জরুরি বলে তারা মনে করেন।

লক্ষ্মীপুর জেলার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ রুবেল বলেন, প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি করে গুরুতর ঘটনা চিহ্নিত করে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা আইনের আওতায় এনে আদালতে ফৌজদারি মামলা করা প্রয়োজন। ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা ঠেকাতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভা যৌথভাবে বাজারে অভিযান পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, অপরাধের জন্য জরিমানা ও সতর্ক করা হলেও অসাধু ব্যবসায়ী চক্রকে পুরোপুরি দমন করা যাচ্ছে না। ভোক্তাদের ঠকিয়ে অনেকেই কোটিপতি হয়ে উঠছে। অনেক হোটেলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত করা হয়, বাসি খাবার পরিবেশন করা হয়। এছাড়া পোশাক তিনগুণ দামে বিক্রি, গুঁড়া দুধে ময়দা মেশানো, চিনি, সয়াবিন ও চাল নিয়ে নানা কারসাজির অভিযোগও রয়েছে।

এদিকে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান জানান, রমজান শুরুর আগেই বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছিল। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আগাম মতবিনিময় সভা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির কারণে বাজারে কিছুটা ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, রমজান শুরু হওয়ার পর তদারকি বাড়ানোয় ভোক্তারা কিছুটা সুফল পেয়েছেন এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তির সঙ্গে রমজান মাস পার করতে পেরেছেন। মাসব্যাপী শুরু হওয়া এই অভিযান এখনো খুচরা ও পাইকারি দোকান, শপিংমল, বাসস্ট্যান্ড ও টিকিট কাউন্টারসহ বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত রয়েছে। ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে এই অভিযান চলমান থাকবে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন