মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
মোংলার মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা

পাশাপাশি কবরে সমাহিত ৯ স্বজন

পাশাপাশি কবরে সমাহিত ৯ স্বজন
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকসহ তার পরিবারের ৯ সদস্যের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের মোংলা কবরস্থানে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়।

জানাজায় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীসহ হাজারো মানুষ অংশ নেন। এ সময় শোকে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

মোংলা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. রুহুল আমিন জানাজায় ইমামতি করেন। একই দুর্ঘটনায় নিহত কনেপক্ষের চারজনের জানাজা কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে অনুষ্ঠিত হয় এবং মাইক্রোবাস চালক নাঈমের জানাজা হয় রামপালে তার গ্রামের বাড়িতে।

জানাজার আগে পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতদের জন্য সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন আশরাফুল আলম জনি, যিনি এই দুর্ঘটনায় বাবা, ভাই, স্ত্রী, সন্তান ও বোনসহ বহু স্বজন হারিয়েছেন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার বাবা রাজনীতি করতেন, ভাইরা ব্যবসা করতেন। কারও যদি কোনো পাওনা থাকে, জানাবেন আমরা তা পরিশোধ করব। সবাই তাদের ক্ষমা করে দেবেন।” তার এই বক্তব্যে উপস্থিত মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

জানাজায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি দুর্ঘটনা। প্রধানমন্ত্রীও নিহত পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন এবং শোকাহত স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাস ও নববধূবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর-কনেসহ ১৪ জন নিহত হন। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই রাতেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ছিলেন বর আহাদুর রহমান ছাব্বির, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক, ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, তাদের সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম। এছাড়া নিহত হন কনে মার্জিয়া আক্তার মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম, নানি আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাস চালক নাঈম।

বর ছাব্বির মোংলা শহরে একটি মোবাইল ফোনের দোকান পরিচালনা করতেন এবং কনে মিতু কয়রার নাকসা আলিম মাদরাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। আনন্দের দিনে যে পরিবারে বিয়ের উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন