গুমের মামলায় ট্রাইব্যুনালে ব্যারিস্টার আরমানের জেরা আজ

র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার পর ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানকে আজ জেরা করা হবে।
রোববার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তাকে জেরা করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক-বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে গত ২১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন ব্যারিস্টার আরমান। জবানবন্দিতে তিনি ২০১৬ সালে গুম হওয়ার পর দীর্ঘ আট বছরের গুমজীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেন।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, গুমের এই মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন ব্যারিস্টার আরমান। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তার জেরা তখন হয়নি এবং এ সময় অন্য সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আজ তিনি জেরার মুখোমুখি হচ্ছেন।
এ মামলায় বর্তমানে ১০ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন— র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।
অন্যদিকে শেখ হাসিনা ছাড়া আরও কয়েকজন আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন— শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন, র্যাবের সাবেক ডিজি ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ এবং র্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম।
এর আগে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর এই মামলায় ১৭ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।