রমজানেও শয়তানি কাজ কেন থামে না? নফসের প্রকারই মূল কারণ

রমজান মাসে শয়তান বন্দি থাকলেও কিছু মানুষ কেন এখনো চুরি, সুদ, ঘুষ, মদ বা অন্য অনৈতিক কাজ করে—এটি নিয়ে সাধারণত অনেকের মধ্যে প্রশ্ন আসে। ধর্মীয় তত্ত্ব অনুসারে এর উত্তর দুইভাবে ব্যাখ্যা করা যায়—তাত্ত্বিক এবং যৌক্তিক।
যৌক্তিক ব্যাখ্যা অনুসারে, মানুষের মনের বা নফসের অবস্থা শয়তানের প্রভাব থেকে আলাদা। যেমন, লোহা বা পিতলের কোনো বস্তুকে দীর্ঘ সময় আগুনে রাখলে আগুন বন্ধের পরও তাপ কিছু সময় থাকে। একইভাবে, যারা বছরের বাকি সময় শয়তানের প্রভাবে চলাফেরা করেছে, তাদের অন্তরের “তাপ” রমজান মাসে শয়তান বন্দি থাকলেও চলে যায় না।
তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মানুষের নফস তিন ধরনের:
১) নফসে আম্মারা, ২) নফসে লাওয়ামাহ ৩) নফসে মুতমাইন্নাহ।
১. নফসে আম্মারাহ (النفس الأمارة بالسوء)
এ নফস মন্দ কাজ, গুনাহ ও খারাপ প্রবৃত্তির দিকে প্ররোচিত করে।
কুরআনের আয়াত:
إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ إِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّي
(সূরা ইউসুফ: ৫৩)
অর্থ: “নিশ্চয়ই নফস মন্দ কাজের প্রতি আদেশ দিয়ে থাকে, যদি না আমার রব রহম করেন।”
এটি সবচেয়ে নিম্ন স্তরের নফস।
২. নফসে লাওয়ামাহ (النفس اللوامة)
এ নফস গুনাহ করার পর নিজেকে তিরস্কার করে, অনুতপ্ত হয়, লজ্জা পায় ও নিজের ভুল স্বীকার করে।
কুরআনের আয়াত:
وَلَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ اللَّوَّامَةِ
(সূরা আল-কিয়ামাহ: ২)
অর্থ: “আমি কসম করছি সেই নফসের, যা নিজেকে তিরস্কার করে।”
এটি মাঝামাঝি স্তর – মুমিনের নফসের সাধারণ অবস্থা।
৩. নফসে মুতমাইন্নাহ (النفس المطمئنة)
এ নফস প্রশান্ত, সন্তুষ্ট ও আল্লাহর স্মরণে শান্তি লাভ করে। এটি উচ্চতর স্তর।
কুরআনের আয়াত:
يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ • ارْجِعِي إِلَىٰ رَبِّكِ رَاضِيَةً مَّرْضِيَّةً
(সূরা আল-ফাজর: ২৭-২৮)
অর্থ: “হে প্রশান্ত নফস! তুমি তোমার রবের দিকে ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে।”
রমজান মাসে শয়তান যখন বন্দি হয়ে যায়, নফসে মুতমাইন্নাহ ও নফসে লাওয়ামাহ যাদের; তাদের ইবাদত বন্দেগী বেড়ে যায়।
রমজান মাস হলো মানুষের নফস বা আত্মাকে নিয়ন্ত্রণের প্রশিক্ষণ। শয়তান বন্দি থাকলেও মানুষের ভেতরের 'নফসে আম্মারাহ' বা কুপ্রবৃত্তিগুলো দমনে যারা ব্যর্থ হন, তারাই মূলত রমজানের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণকারী কাজে জড়িয়ে পড়েন। তাই কেবল শয়তানের ওপর দায় না চাপিয়ে নিজের নফসকে পরিশুদ্ধ করাই রমজানের প্রকৃত শিক্ষা।
দৈএনকে/জে, আ