অল্প সময়ে পাঠযোগ্য, ১০টি ফজিলতপূর্ণ যিকির

ইসলামে যিকির বা আল্লাহর স্মরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও কিছু সংক্ষিপ্ত ও শক্তিশালী যিকির নিয়মিত পড়া মানুষের আত্মিক শান্তি, নেকি বৃদ্ধি ও গুনাহ মাফে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিচে ১০টি পরীক্ষিত ও ফজিলতপূর্ণ যিকির তুলে ধরা হলো:
১. লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু...
ফজিলত: ১০টি দাস মুক্তির সওয়াব, ১০০ নেকি, ১০০ গুনাহ মাফ, শয়তান থেকে সুরক্ষা।
(রেফারেন্স: সহিহ আল-বুখারি 3293, সহিহ মুসলিম 2691)
২. সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি (১০০ বার)
ফজিলত: সমুদ্রের ফেনার মতো গুনাহও মাফ হয়।
(রেফারেন্স: সহিহ আল-বুখারি 6405, সহিহ মুসলিম 2691)
৩. সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার
ফজিলত: প্রতিটি বাক্যের বিনিময়ে জান্নাতে একটি করে গাছ রোপণ করা হয়।
(রেফারেন্স: জামে তিরমিজি 3464)
৪. সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আযীম
ফজিলত: “দুটি বাক্য জিহ্বায় হালকা, মিযানে ভারী, রহমানের নিকট প্রিয়।”
(রেফারেন্স: সহিহ আল-বুখারি 6682, সহিহ মুসলিম 2694)
৫. লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
ফজিলত: জান্নাতের ধনভাণ্ডারের একটি ধন, আলেমদের ব্যাখ্যায় জান্নাতের সম্পদ বৃদ্ধি করে।
(রেফারেন্স: সহিহ আল-বুখারি 6409, সহিহ মুসলিম 2704)
৬. দরুদ শরিফ
ফজিলত: একবার পড়লে ১০ রহমত নাযিল হয়, ১০ গুনাহ মাফ, ১০ মর্যাদা বৃদ্ধি।
(রেফারেন্স: সহিহ মুসলিম 408)
৭. আস্তাগফিরুল্লাহ
ফজিলত: রাসুল ﷺ দিনে ৭০–১০০ বার ইস্তিগফার করতেন।
(রেফারেন্স: সহিহ আল-বুখারি 6307, সহিহ মুসলিম 2702)
৮. সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার (সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া)
ফজিলত: সকালে পড়ে সন্ধ্যার আগে মৃত্যু হলে জান্নাত; রাতে পড়ে সকালে মৃত্যু হলে জান্নাত।
(রেফারেন্স: সহিহ আল-বুখারি 6306)
৯. আলহামদুলিল্লাহ
ফজিলত: মিযান পূর্ণ করে।
(রেফারেন্স: সহিহ মুসলিম 223)
১০. বেশি সালামে বেশি সওয়াব
ফজিলত: এক ব্যক্তি বলল, আসসালামু আলাইকুম → ১০ নেকি; আরও সম্প্রসারিত সালাম → ২০–৩০ নেকি।
(রেফারেন্স: সুনান আবু দাউদ 5195, তিরমিজি 2689)
দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও এই ১০টি যিকির নিয়মিত পড়া আত্মিক প্রশান্তি বৃদ্ধি, গুনাহ মাফ ও নেকি অর্জনের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করে এই যিকিরগুলো পড়া অভ্যাসে আনা উচিত।
দৈএনকে/জে, আ