রমজানে বাজার অস্থিরতা: তদারকি কোথায়, স্বস্তি কবে?

পবিত্র রমজান শুরু হলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়া যেন আমাদের বাজার ব্যবস্থার এক অঘোষিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছরই রোজার আগমুহূর্তে লেবু, বেগুন, শসা, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, খেজুর কিংবা মুরগির দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে দেখা যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ফলে বাড়তি খরচের চাপে নাকাল সাধারণ ক্রেতা।
বাজার ঘুরে দেখা যাচ্ছে, যেসব লেবু সাধারণ সময়ে ২০–৩০ টাকা হালিতে বিক্রি হয়, তা এখন ১০০–১২০ টাকায়। বেগুন, শসা ও অন্যান্য সবজির দামও দ্বিগুণ-তিনগুণ বেড়েছে। পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৯০–২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজার শুরুতেই এমন দামের চাপ মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ।
বিক্রেতাদের যুক্তি—রমজানে চাহিদা বেড়ে যায়, কিন্তু সরবরাহ সে হারে বাড়ে না। ফলে মোকাম ও আড়তেই দাম বেড়ে যায়। খুচরা পর্যায়ে এসে তা আরও কিছুটা বাড়ে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতি বছর একই সময়ে চাহিদা বাড়বে—এটি তো পূর্বানুমেয়। তাহলে সরবরাহ পরিকল্পনা আগে থেকে নেওয়া হয় না কেন?
রমজান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এটি নির্ধারিত সময়েই আসে। তাই বাজার ব্যবস্থাপনা, আমদানি পরিকল্পনা, সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থায় আগাম সমন্বয় থাকলে এ ধরনের অস্থিরতা অনেকটাই কমানো সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, চাহিদা বৃদ্ধিকে পুঁজি করে অসাধু কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা করেন। আর তার খেসারত দেয় সাধারণ মানুষ।
বিক্রেতারা বলছেন, এক সপ্তাহ পর দাম কিছুটা কমতে পারে। রোজার শুরুতে কেনাকাটা বাড়ে, পরে তা কমে আসে। অনেক পরিবার ঈদের ছুটিতে গ্রামে চলে গেলে শহরে চাহিদা কমে। কিন্তু বাজারকে কি কেবল ‘চাহিদা কমার’ অপেক্ষায় থাকতে হবে? তদারকি সংস্থা, ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সক্রিয় ভূমিকা কোথায়?
দাম নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার তদারকি, ন্যায্যমূল্যের তালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা, মজুতদারি ও কারসাজির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা—এসব পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হলে পরিস্থিতি বদলাবে না। একইসঙ্গে কৃষিপণ্য সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে শহরে আনার ব্যবস্থাও জোরদার করতে হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমে।
রমজান আত্মসংযম ও সংহতির মাস। এই মাসে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সেই চেতনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। বাজারে স্বস্তি ফেরাতে সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। না হলে প্রতি বছরই রোজার চাঁদ দেখার আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হবে মূল্যবৃদ্ধির দুশ্চিন্তা।