শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু স্টয়নিসের ঝড়ে এক ওভারে ৫ ছক্কা, দুঃস্বপ্নের ম্যাচ ইয়ান হল্যান্ডের গুমের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে, ছাড় নয়: মির্জা ফখরুল চীন সফর শেষে আজ রাতে ঢাকায় ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী, শোডাউন না করতে নির্দেশ তারেক-শি বৈঠকে নতুন গতি, বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে ১৭ সমঝোতা সই ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে নিহতদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শোক ও সমবেদনা স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’, জনবান্ধব সেবায় জোর সরকারের মাদক প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাজেটে করের বোঝা সাধারণের ওপর, ধনীদের সুবিধা বহাল: সিপিডি বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় প্রধানমন্ত্রীর
  • কারবালার শিক্ষা: ক্ষমতার নয়, ন্যায়ের বিজয়ের চিরন্তন বার্তা

    কারবালার শিক্ষা: ক্ষমতার নয়, ন্যায়ের বিজয়ের চিরন্তন বার্তা
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    পবিত্র আশুরা ইসলামের ইতিহাসে এক গভীর শোক, আত্মত্যাগ ও নৈতিক দৃঢ়তার প্রতীক। ৬১ হিজরির ১০ মহররম কারবালার প্রান্তরে সংঘটিত মর্মান্তিক ঘটনা শুধু একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধ নয়; এটি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আপসহীন অবস্থানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তার সঙ্গীদের আত্মত্যাগ আজও বিশ্ববাসীকে অন্যায়, জুলুম ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর প্রেরণা জোগায়।

    কারবালার ঘটনাপ্রবাহ শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও খেলাফতের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে। হজরত মুয়াবিয়া (রা.)-এর মৃত্যুর পর ইয়াজিদের শাসনকে কেন্দ্র করে যে বিরোধ সৃষ্টি হয়, তারই পরিণতিতে ইমাম হোসাইন (রা.) পরিবার-পরিজন নিয়ে কুফার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। কিন্তু প্রতিশ্রুত সমর্থন না পেয়ে তিনি কারবালায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এবং অল্পসংখ্যক সঙ্গী নিয়ে বিশাল বাহিনীর মুখোমুখি হন। তবুও তিনি অন্যায়ের কাছে আত্মসমর্পণ করেননি।

    ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, কারবালার ট্র্যাজেডি ছিল রাজনৈতিক সংকট, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং মাঠপর্যায়ের সিদ্ধান্তের জটিল সমন্বয়। এই ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও একটি বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই—ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাত মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে গভীর বেদনার অধ্যায় এবং নৈতিক সাহসের সর্বোচ্চ উদাহরণ।

    আশুরার প্রকৃত তাৎপর্য কেবল শোক প্রকাশে সীমাবদ্ধ নয়। এটি আত্মসমালোচনা, ন্যায় প্রতিষ্ঠা, ধৈর্য, ত্যাগ এবং মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করার শিক্ষা দেয়। ইসলামে আশুরার রোজার বিশেষ ফজিলতও রয়েছে, যা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে পালন করেছেন এবং সাহাবিদেরও উৎসাহিত করেছেন। তাই এই দিনের ধর্মীয় গুরুত্ব কারবালার ঘটনার আগেই প্রতিষ্ঠিত ছিল।

    আজকের বিশ্বে যখন ক্ষমতার অপব্যবহার, বৈষম্য, সংঘাত ও অন্যায় বিভিন্ন রূপে বিদ্যমান, তখন কারবালার শিক্ষা আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পর্যায়েই সত্য, ন্যায়, সততা ও মানবিকতার চর্চা নিশ্চিত করতে পারলেই ইমাম হোসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন সম্ভব হবে।

    কারবালা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—অন্যায়ের সঙ্গে আপস করে সাময়িক সফলতা অর্জনের চেয়ে সত্যের পথে অবিচল থেকে আত্মত্যাগ অনেক বেশি মহিমান্বিত। এই শিক্ষা যুগে যুগে মানুষকে আলোকিত করবে এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রেরণা হয়ে থাকবে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ