মুনাফা তোলার স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পর প্রথম কার্যদিবসে বড় উত্থানের দেখা মিললেও দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে মূল্য সংশোধন হয়েছে। টানা তিন কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মুনাফা তুলে নিতে বিক্রির চাপ বাড়ালে সূচকে পতন দেখা যায়।
রোববার প্রধান শেয়ারবাজারে সূচক ২০০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বৃদ্ধির ফলে বাজার মূলধন ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি বাড়ে। একই সঙ্গে পাঁচ মাস পর হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হয়।
তবে সোমবার লেনদেন শুরুর পর সূচক আরও প্রায় ৫০ পয়েন্ট বাড়লেও প্রথম আধাঘণ্টা পার হতেই চিত্র পাল্টে যায়। বিক্রির চাপ বাড়ায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর কমতে শুরু করে। দিন শেষে ডিএসইএক্স সূচক ১১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৮৯ পয়েন্টে নেমে আসে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১১৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৩৬ পয়েন্টে অবস্থান করে।
দিনের লেনদেন শেষে দাম বাড়ার তালিকায় ছিল ১৫৩টি প্রতিষ্ঠান, বিপরীতে কমেছে ২১৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টির দর। যদিও দরপতনের তালিকা বড় ছিল, তবু বাজারে ক্রেতাদের সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। ফলে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৫৭ কোটি টাকার বেশি, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় কিছুটা কম হলেও হাজার কোটির ঘর অতিক্রম করেছে।
খাতভিত্তিক চিত্রে দেখা যায়, ভালো লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যেও মিশ্র প্রবণতা ছিল। মাঝারি ও ‘জেড’ গ্রুপভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারেও একই চিত্র দেখা যায়। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যেও উত্থান-পতন মিলিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ লেনদেন হয়েছে।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। কোম্পানিটির ৬৫ কোটি টাকার বেশি শেয়ার হাতবদল হয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে ছিল ঢাকা ব্যাংক এবং সিটি ব্যাংক। এছাড়া শীর্ষ লেনদেন তালিকায় ছিল এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, ব্র্যাক ব্যাংক, একমি পেস্টিসাইড, আইএফআইসি ব্যাংক, রবি আজিয়াটা, সোনালী পেপার এবং শাহজিবাজার পাওয়ার।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ-এ (সিএসই) সার্বিক সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়েছে। সেখানে ২২৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৬টির দর বেড়েছে, ৯০টির কমেছে এবং ২২টির দর অপরিবর্তিত ছিল। তবে লেনদেন কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকায়।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন। টানা উত্থানের পর কিছু বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নেওয়ায় সাময়িক দরপতন হয়েছে। তবে ইতিবাচক দিক হলো—বাজারে ক্রেতাদের সক্রিয়তা অব্যাহত রয়েছে এবং লেনদেনের গতি শক্তিশালী। তাদের মতে, একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে। শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি উত্থান-পতনের মধ্য দিয়েই এগিয়ে যায়; টানা উত্থান বা টানা পতন কোনোটিই সুস্থ বাজারের লক্ষণ নয়।