সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
Natun Kagoj

রমজানের রূপকথা: উমরা ও নেক আমলের বরকত

রমজানের রূপকথা: উমরা ও নেক আমলের বরকত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনদের জন্য রহমত হলো রমজান মাস , মাগফিরাত ও নাজাতের এক অমূল্য সময়। এই মাসে প্রতিটি নেক কাজের সওয়াব অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়। বিশেষভাবে নফল ইবাদতও ফরজের সমান মর্যাদা পায় এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ আরও বাড়ে। সাহাবায়ে কেরাম রমজান মাসে ইবাদতের গুরুত্ব সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন এবং কোনো ইবাদত থেকে বঞ্চিত হলে তার বিকল্প সওয়াবের পথও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে জিজ্ঞেস করতেন।

রমজানে উমরার বিশেষ মর্যাদা সম্পর্কেও এমনই একটি হৃদয়গ্রাহী হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا رَجَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ حَجَّتِهِ قَالَ لأُمِّ سِنَانٍ الأَنْصَارِيَّةِ مَا مَنَعَكِ مِنْ الْحَجِّ قَالَتْ أَبُو فُلاَنٍ تَعْنِي زَوْجَهَا كَانَ لَهُ نَاضِحَانِ حَجَّ عَلَى أَحَدِهِمَا وَالآخَرُ يَسْقِي أَرْضًا لَنَا قَالَ فَإِنَّ عُمْرَةً فِي رَمَضَانَ تَقْضِي حَجَّةً أَوْ حَجَّةً مَعِي

ইবনে ‘আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ হতে ফিরে এসে উম্মে সিনান (রা.) নাম্নী এক আনসারী মহিলাকে বললেন, হজ আদায় করাতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তিনি বললেন, অমুকের আববা অর্থাৎ তার স্বামী, কারণ পানি টানার জন্য আমাদের মাত্র দু’টি উট আছে। একটিতে সাওয়ার হয়ে তিনি হজ আদায় করতে গিয়েছেন।

আর অন্যটি আমাদের জমিতে পানি সিঞ্চনের কাজ করছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, রমজান মাসে একটি ‘উমরাহ আদায় করা একটি ফরজ হজ আদায় করার সমান অথবা বলেছেন, আমার সঙ্গে একটি হজ আদায় করার সমান। (বুখারি, হাদিস : ১৮৬৩)
এই হাদিসে রমজান মাসে উমরা আদায়ের অসাধারণ মর্যাদা তুলে ধরা হয়েছে। আলেমগণ ব্যাখ্যা করেছেন, এখানে সওয়াবের দিক থেকে সমতার কথা বলা হয়েছে, ফরজ হওয়ার দিক থেকে নয়।

অর্থাৎ রমজানের উমরা ফরজ হজের দায়িত্ব আদায় করে দেয় না; তবে সওয়াবের দিক থেকে এর মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ।
রমজানে উমরার ফজিলতের একটি কারণ হলো, এ মাস নিজেই বরকতপূর্ণ সময়। সময়ের মর্যাদা যখন বেশি হয়, তখন সেই সময়ে সম্পাদিত ইবাদতের মূল্যও বেড়ে যায়। যেমন কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম, তেমনি রমজানে করা ইবাদতও বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। আর উমরা যেহেতু নিজেই একটি বড় ইবাদত, তাই তা রমজানে আদায় করলে তার সওয়াব বিশেষভাবে বৃদ্ধি পায়।

এ ছাড়া রমজানে উমরা আদায় মানুষকে আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়ার পথে আরো দৃঢ় করে। রোজা, তারাবি, কোরআন তিলাওয়াত এবং মক্কা-মদিনার পবিত্র পরিবেশ—সব মিলিয়ে একজন মুসলমানের অন্তর নরম হয়, গুনাহ থেকে দূরে থাকার প্রবণতা বৃদ্ধি পায় এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গভীর হয়।

রমজানে উমরা করার আরেকটি বড় উপকারিতা হলো, এটি অতীতের গুনাহ মাফের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য হাদিসে বলেছেন, এক উমরা থেকে আরেক উমরা পর্যন্ত সময়ের গুনাহের জন্য কাফফারা হয়।  তাই রমজানের মতো বরকতময় মাসে উমরা আদায় মুমিনের জন্য আত্মিক পরিশুদ্ধির এক অনন্য সুযোগ।

সবশেষে বলা যায়, যে ব্যক্তি কোনো কারণে হজে অংশ নিতে না পারেন, তার জন্য রমজানে উমরা একটি বড় সান্ত্বনা ও মহান আমলের সুযোগ। এটি মুমিনের ঈমানকে শক্তিশালী করে, আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের পথ খুলে দেয় এবং আখিরাতের জন্য বিপুল সওয়াবের ভান্ডার সঞ্চয়ের মাধ্যম হয়ে ওঠে। তাই সামর্থ্য থাকলে রমজানে উমরা আদায়ের চেষ্টা করা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর।


দৈএনকে/জে, আ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন