মাগুরায় চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ১

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক চিকিৎসক, ডা. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে ৯ জনকে আসামি করে মহম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। এরপর শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অভিভুক্ত মাজহারুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শুক্রবার দুপুর ১২টা ২ মিনিটের দিকে ১০-১২ জনের একটি দল জরুরি বিভাগে ঢুকে ডা. আসাদুর রহমানকে চেয়ার থেকে টেনে তুলে মারধর করে। ফুটেজে কিল-ঘুষি ও লাথি মারার পাশাপাশি স্টিক দিয়ে আঘাতের চেষ্টার দৃশ্যও ধরা পড়ে।
ঘটনার বর্ণনায় ডা. আসাদুর রহমান বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত দুই রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার পর তিনি শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত আরেক রোগীকে দেখছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাকে বাইরে বসতে বলা হয়। কিন্তু তিনি রোগীর চেয়ারে বসে বিরক্ত করতে থাকেন। রোগীর চেয়ার ছেড়ে বাইরে বসার অনুরোধ জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে আমার ওপর হামলা চালায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আহত নূর মোহাম্মদ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান মিলটনের আত্মীয়। ওই রোগীর বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রপাত হয়।
মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কাজী আবু আহসান বলেন, ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মাগুরা জেলা শাখা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। দাবি মানা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ আশরাফুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় শুক্রবার ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অভিভুক্ত মাজহারুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় অভিযুক্ত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।