হাসিনা–পরবর্তী বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন প্রত্যাশা

বাংলাদেশের রাজনীতি এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এককেন্দ্রিক শাসনের অবসান, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নিষেধাজ্ঞা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন—সব মিলিয়ে দেশ আজ এক গভীর রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি ও এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজনীতির কেন্দ্রে ফিরে এসেছেন নতুন প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে।
দেশজুড়ে বিএনপির জনসভাগুলোতে বিপুল জনসমাগম প্রমাণ করে, পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা কতটা গভীরভাবে সমাজে প্রোথিত। গাজীপুরের গভীর রাতের সমাবেশ থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঞ্চলের নির্বাচনি জনসভায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি বিএনপির সাংগঠনিক শক্তির পুনরুজ্জীবনের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। দমন-পীড়ন, গুম, গ্রেফতার ও রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মধ্য দিয়েও বিএনপি যে টিকে ছিল, জনসমাগম তারই প্রতিফলন। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে তারেক রহমানের দেশে ফেরা শুধু একটি ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন নয়, বরং একটি রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
সকল সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিএনপি যে তার তৃণমূল ভিত্তি ধরে রাখতে পেরেছে, সেটিই আজ দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। তারেক রহমানের সরাসরি মাঠে উপস্থিতি দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে এবং সাধারণ সমর্থকদের সঙ্গে নেতৃত্বের দূরত্ব কমিয়েছে। এটি বিএনপির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্ত।
এই নির্বাচন তারেক রহমানের জন্য একটি বড় সুযোগ—নিজের নেতৃত্বগুণকে বাস্তব রাজনীতিতে প্রয়োগ করার। দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকেও দল পরিচালনার অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজ করার সুযোগ এবং আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার সঙ্গে পরিচয়—এসব তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে পরিণত করেছে। দেশে ফিরে তিনি যে সক্রিয়ভাবে জনসংযোগ ও প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন, তা নেতৃত্বের প্রতি তার অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
তার বক্তব্যে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান এবং জনগণের ক্ষমতায়নের অঙ্গীকার বারবার উঠে এসেছে। জাতির উদ্দেশে ভাষণে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলার মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক পরিপক্বতারও পরিচয় দিয়েছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় তিনি ব্যক্ত করেছেন, তা নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ।
বাংলাদেশের তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ নতুন নেতৃত্ব ও নতুন রাজনীতির প্রত্যাশা করে। তারেক রহমানের সামনে সুযোগ রয়েছে এই প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে একটি আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক ধারার সূচনা করার। কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির যে আলোচনা বিএনপির রাজনৈতিক ভাষ্যে আসছে, তা ভবিষ্যতমুখী রাজনীতির ইঙ্গিত দেয়।
একই সঙ্গে, বিএনপির ঐতিহাসিক তৃণমূল ভিত্তি এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উত্তরাধিকার এখনো দেশের বিস্তীর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে আবেগ ও আস্থার জায়গা। এই ঐতিহ্য ও সমসাময়িক বাস্তবতার সমন্বয় ঘটাতে পারলে বিএনপি আবারও একটি শক্তিশালী জাতীয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।
হাসিনা–পরবর্তী বাংলাদেশ এমন এক নেতৃত্ব খুঁজছে, যা প্রতিশোধের নয় বরং পুনর্গঠনের কথা বলবে; বিভাজনের নয়, ঐক্যের কথা বলবে। তারেক রহমানের সামনে এখন সেই প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সুযোগ। এই নির্বাচন তার জন্য কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার পথ নয়, বরং জনগণের আস্থাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
বাংলাদেশ আজ পরিবর্তনের পথে। সেই পরিবর্তনের নেতৃত্ব কে দেবে—তার উত্তর দেবে জনগণ। তবে তারেক রহমান ও বিএনপির সামনে যে সম্ভাবনার দরজা খুলে গেছে, তা নিঃসন্দেহে দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।