দীঘিনালার স্বাস্থ্যসেবা সংকট: শত বছরের ভবনে লাখের রোগী

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার প্রায় দেড় লাখ মানুষ একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছেন। ১৯২৪ সালে ছোট একটি ডিসপেনসারি হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই কেন্দ্রটি আজও মাত্র ১০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে কার্যরত। শত বছরের পুরোনো টিনের ভবনের দেয়াল খসে পড়ছে, ছাউনির ফাঁক দিয়ে বৃষ্টি ঢুকছে, এবং এক্সরে, ইসিজি ও আল্ট্রাসনোগ্রাফির মতো অত্যাবশ্যক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নেই।
প্রায় সাতজন মেডিকেল অফিসারের জন্য বর্তমানে এখানে কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন। দৈনিক বহির্বিভাগে ২০০–২৫০ জন এবং জরুরি বিভাগে ৩০–৫০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্স না থাকার কারণে রোগীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় ওষুধও হাসপাতালে পাওয়া যায় না, যা রোগীদের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ও সময়ের চাপ সৃষ্টি করছে।
ছয় বছর আগে ৫০ শয্যার নতুন হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রকল্প এখনো অসম্পূর্ণ। স্থানীয়রা এবং হাসপাতালের কর্মকর্তারা দ্রুত নতুন ভবন চালু এবং শূন্যপদ পূরণের দাবি জানাচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তনয় তালুকদারের মতে, নতুন ভবন ও পর্যাপ্ত জনবল থাকলে দীঘিনালার মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা পাবে।
সরকারের কাছে প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে এই জরুরি সমস্যার সমাধান কেন সম্ভব হয়নি? প্রান্তিক দীঘিনালার মানুষদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে। স্বাস্থ্য সেবা নৈতিক দায়িত্ব; দেরি করলে লাখের মানুষ ঝুঁকিতে থাকবে। দীঘিনালার স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে আধুনিক হাসপাতালে রূপান্তরিত করা এখন সময়ের দাবি।