এলপিজি বাজারে নৈরাজ্য আর প্রশাসনিক নীরবতা

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এখন দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের নিত্যদিনের জ্বালানি। কিন্তু সেই প্রয়োজনীয় জ্বালানিই আজ সাধারণ মানুষের জন্য হয়ে উঠেছে ভোগান্তির আরেক নাম। সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে খুচরা বাজারে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। এর চেয়েও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—রসিদ চাইলে দোকানদারের সাফ জবাব, “গ্যাস নেই”।
রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় এলপিজির কৃত্রিম সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি প্রমাণ করে, বাজার ব্যবস্থাপনায় মারাত্মক দুর্বলতা রয়েছে। একদিকে নির্ধারিত দামে পণ্য না পাওয়া, অন্যদিকে অতিরিক্ত দামে কিনেও আইনি প্রমাণ—রসিদ—না পাওয়ায় ভোক্তারা কার্যত অসহায়। এতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন থাকলেও তার প্রয়োগ যে কতটা দুর্বল, তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে।
খুচরা বিক্রেতারা দায় চাপাচ্ছেন পাইকারি ব্যবসায়ী ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর। আবার পাইকারি পর্যায়ে ‘মাহাজননির্ভরতা’র অজুহাতে সংকটের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই দায়-দায়িত্বহীনতার দায় নেবে কে? বাজার পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর হলেও নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির দায়িত্ব তো সরকারেরই।
সরকার অবশেষে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) সরকার-থেকে-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে, যা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দেরি হলে ততদিনে সংকট আরও গভীর হবে। দ্রুত আমদানি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজারে নজরদারি জোরদার করা, রসিদ ছাড়া বিক্রি বন্ধ করা এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
নইলে ‘রসিদ চাইলে গ্যাস নেই’—এই বাক্যটি কেবল একটি অভিযোগ নয়, বরং ভোক্তা অধিকার ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবেই থেকে যাবে।