জরিপে ভূমিধস জয়ের ইঙ্গিত, তবে প্রশ্ন থেকেই যায়

একটি বেসরকারি জরিপে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিপুল জনসমর্থনের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেল’-এর পরিচালিত এই জরিপ অনুযায়ী, বিএনপি পেতে পারে ৭৭ শতাংশ ভোট এবং সংসদের প্রায় ২২০টি আসন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেতে পারে ৫৭টি আসন।
জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকাশিত এই জরিপে অংশ নেন ৩০০ জন উত্তরদাতা। জরিপের তথ্য বলছে, উত্তরদাতাদের বড় একটি অংশ সরাসরি বিএনপির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করলেও সংস্কার ইস্যুতে গণভোট হলে কীভাবে ভোট দেবেন—সে বিষয়ে এখনো প্রায় অর্ধেক মানুষ সিদ্ধান্তহীন। এটি ইঙ্গিত দেয়, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সমর্থন থাকলেও নীতিগত ও কাঠামোগত সংস্কার প্রশ্নে জনমত এখনো সুস্পষ্ট নয়।
জরিপে আরও দাবি করা হয়েছে, ৯৯ শতাংশ উত্তরদাতা তাদের নিজ নিজ আসনের নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট। বাস্তব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই তথ্য যেমন আশাব্যঞ্জক, তেমনি প্রশ্নও জাগায়—নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও অভিযোগের সঙ্গে এই সন্তুষ্টির হার কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে এই জরিপের সীমাবদ্ধতাও উপেক্ষা করা যায় না। মাত্র ৩০০ জনের ওপর পরিচালিত একটি জরিপকে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিফলন হিসেবে দেখা কতটা যুক্তিসংগত, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। তবুও এটি স্পষ্ট যে রাজনৈতিক মাঠে বিরোধী শক্তির প্রতি জনসমর্থনের একটি প্রবল বার্তা এতে উঠে এসেছে।
অতএব, এই জরিপকে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের পূর্বাভাসের চেয়ে বরং বর্তমান রাজনৈতিক মনোভাবের একটি ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা উচিত। চূড়ান্ত রায় আসবে ভোটের বাক্সেই—সেটিই গণতন্ত্রের শেষ কথা।