সালাতুল হাজত নামাজ: হাজত পূরণের বিশেষ ইবাদত ও দোয়া

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, সালাতুল হাজত নামাজ বা হাজতের নামাজ একটি বিশেষ নফল নামাজ, যা আল্লাহর কাছে নিজস্ব কোনো প্রয়োজন বা ইচ্ছা পূরণের জন্য আদায় করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নামাজ ইশার নামাজের পর বা রাতের শেষ পর্যায়ে (তাহাজ্জুদের সময়) পড়া সবচেয়ে উত্তম।
নামাজের নিয়ম অনুযায়ী, দুই রাকাআত নফল পড়া হয়; ইচ্ছা করলে চার রাকাআতও আদায় করা যায়। নিয়ত করা হয়:
“আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমার হাজত পূরণের উদ্দেশ্যে ২ রাকাআত নফল সালাতুল হাজত নামাজ আদায় করছি।”
সালাতুল হাজতের রাকাতগুলো স্বাভাবিক নফল নামাজের মতোই পড়া হয়। ফাতিহা সুরার পর যেকোনো সুরা পড়া যেতে পারে।
নামাজ শেষে দু’হাত তুলে দোয়া করা হয়। আরবি দোয়াঃ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ وَأَتَوَجَّهُ إِلَيْكَ بِنَبِيِّكَ مُحَمَّدٍ ﷺ نَبِيِّ الرَّحْمَةِ،
يَا مُحَمَّدُ إِنِّي تَوَجَّهْتُ بِكَ إِلَى رَبِّي فِي حَاجَتِي هَذِهِ لِتُقْضَى،
اللَّهُمَّ فَشَفِّعْهُ فِيَّ
পরবর্তীতে নিজের ভাষায় বলা যায়, যেমন—
“হে আল্লাহ, যদি (অমুক ব্যক্তি)-কে আমার জন্য হালাল ও কল্যাণকর মনে করেন, তবে আমাদের মধ্যে হালাল সম্পর্ক (বিয়ে) প্রতিষ্ঠা করুন। আর যদি সে আমার জন্য ভালো না হয়, তবে আমার হৃদয় থেকে তাকে দূরে সরান এবং আমাকে উত্তম কাউকে দান করুন।”
অতিরিক্ত হালাল আমল:
- ইস্তিখারা দোয়া ৭ দিন ধরে পড়লে সিদ্ধান্ত ও মানসিক শান্তির জন্য সহায়ক।
- নিয়মিত ইয়া ওয়াদূদু ১০০ বার, ইয়া জামীউ ১১১ বার এবং দরুদ শরিফ আগে ও পরে ১১ বার পড়া।
- কুরআনের দোয়া:
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ (সুরা ফুরকান: ৭৪)
গুরুত্বপূর্ণ শর্ত:
-
নিয়ত অবশ্যই হালাল হওয়া উচিত, যেমন বিয়ে সম্পর্কিত।
-
জোর করে কাউকে পাওয়ার জন্য নয়।
-
ধৈর্য, তাওয়াক্কুল এবং নিয়মিত নামাজ পালন অবশ্যই রাখার বিষয়।
হাদিস অনুযায়ী, সালাতুল হাজত নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে দোয়া এবং হালাল প্রয়োজন পূরণের সুযোগ বেশি সক্রিয় হয়।
সূত্র:
সুনান তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৭৮
দৈএনকে/জে, আ