মৃত ব্যক্তির কবর আলোকিত করে হাফেজ সন্তানের পাঠ

এক বুযুর্গ সম্প্রতি একটি অদ্ভুত ও শিক্ষণীয় ঘটনা শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, একবার কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং কবরবাসীদের জন্য কিছু সূরা পাঠ ও ঈসালে সওয়াব করেছিলেন। সেদিন রাতেই তিনি এক বিস্ময়কর স্বপ্ন দেখেন।
স্বপ্নে তিনি দেখেন কবরস্থানের সব মৃত ব্যক্তি একত্রিত হয়েছেন। হঠাৎ আকাশ থেকে একজন ব্যক্তি বড় একটি নূরের পুঁটলি নিয়ে নামেন। পুঁটলিটি রাখার সঙ্গে সঙ্গে মৃত ব্যক্তিরা হাহাকার করে সেখানে ছুটে যান। তবে একজন বৃদ্ধ শান্তভাবে বসে ছিলেন, অন্যদের মতো দৌড়াচ্ছিলেন না।
বুজুর্গ বৃদ্ধকে জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি কেন অংশ নিচ্ছেন না? আপনার কি সওয়াবের প্রয়োজন নেই?"
বৃদ্ধ মুচকি হেসে বললেন, "প্রয়োজন অবশ্যই আছে, কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আমার একজন কলিজার টুকরো সন্তান আছে। আমি তাকে পবিত্র কুরআনের হাফেজ বানিয়েছি। সে প্রতিদিন দোকানে বসে কুরআন তেলাওয়াত করে এবং তার পাঠানো সওয়াব আমার কবরে পাঠানো হয়। সেই উপহারে আমার কবর এতই আলোকিত যে অন্যের ভাগের ওপর আমার আশা করতে হয় না।"
পরদিন সকালে বুযুর্গ সেই ঠিকানায় যান এবং সত্যিই এক যুবক দোকানে বসে ক্রেতাদের না থাকলেও কুরআন তেলাওয়াত করছেন। বুযুর্গ বুঝতে পারেন, এই সন্তানের আমলই তার বাবার কবরের শান্তির মাধ্যম।
জীবিতদের পক্ষ থেকে দোয়া বা দান-সদকা মৃত ব্যক্তিদের কবরে বিশাল শান্তি ও আরামের মাধ্যম হতে পারে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়; তিনটি মাধ্যম ছাড়া: ১. সদকায়ে জারিয়া (চলমান দান), ২. এমন জ্ঞান যা মানুষ উপকৃত হয়, ৩. এমন নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।" (সহীহ মুসলিম)
সংক্ষেপে বলা যায়, সন্তানকে দ্বীনদার বানানো বাবা-মায়ের জন্য পরকালের সবচেয়ে বড় অর্জন।
সূত্র: খুতুবাতে ফকির – যুলফিকার আহমদ নকশবন্দী (রহ.)
দৈএনকে/জে, আ