সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
Natun Kagoj
জুমার দিন

দোয়া কবুলের সময় ও গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহ

দোয়া কবুলের সময় ও গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ইসলামে জুমার দিন বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনকে মুসলমানদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন বলা হয়। পবিত্র কোরআনে জুমার নামাজের আজান হলে সব ধরনের ব্যস্ততা ত্যাগ করে আল্লাহর স্মরণে মসজিদে গমন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, হে মুমিনরা! জুমার দিন নামাজের আজান হলে তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং বেচা-কেনা পরিত্যাগ করো। এটি তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা উপলব্ধি করো। অতঃপর নামাজ শেষ হলে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করো। (সুরা জুমা: ৯–১০)

হাদিসে জুমার দিনের বহু ফজিলত ও গুরুত্বপূর্ণ আমলের কথা এসেছে। সংক্ষেপে জুমার দিনের উল্লেখযোগ্য আমল ও বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো—

জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা

রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের পাঁচটি অনন্য বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে এবং তাঁর ইন্তেকালও এই দিনেই হয়েছে। জুমার দিনেই এমন একটি সময় রয়েছে, যখন হারাম কিছু ছাড়া বান্দার যে কোনো দোয়া কবুল হয়। একই সঙ্গে এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। (ইবনে মাজাহ)

জুমার নামাজের গুরুত্ব

জুমার নামাজ আদায় করা ফরজ। যথাযথ পবিত্রতা ও আদব রক্ষা করে জুমার নামাজ আদায় করলে এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত ছোট গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়—যদি কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকা যায়। (বুখারি, মুসলিম)

গোসল ও পরিচ্ছন্নতা

জুমার দিন গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরা ও সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত। যারা আগে আগে মসজিদে গিয়ে মনোযোগসহ খুতবা শোনেন, তাদের প্রতিটি কদমের বিনিময়ে এক বছরের নফল নামাজ ও রোজার সওয়াবের কথা হাদিসে এসেছে। (আবু দাউদ)

আগে মসজিদে প্রবেশের ফজিলত

জুমার দিন প্রথম দিকে মসজিদে প্রবেশকারীদের জন্য বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। রাসুল (সা.) জানিয়েছেন, আগেভাগে আগমনকারীদের আমল কোরবানির সওয়াবের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে—যা সময়ের সঙ্গে ধাপে ধাপে কমে আসে। (বুখারি)

দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত

জুমার দিনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। হাদিস অনুযায়ী, আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সময়টিকে দোয়া কবুলের সম্ভাব্য মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সময়ে আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার আশা করা যায়। (আবু দাউদ)

সুরা কাহাফ তিলাওয়াত

জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠ করা বিশেষ আমল। এটি দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত নূরের কারণ হয়। পাশাপাশি সুরাটির শেষ দশ আয়াত দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপত্তা দেয়। (সহিহ তারগিব)

দরুদ পাঠের গুরুত্ব

জুমার দিন নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কারণ এই দিনে পাঠ করা দরুদ বিশেষভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পেশ করা হয়। (আবু দাউদ)

গুনাহ মাফের সুযোগ

জুমার দিনের আমল—গোসল, পবিত্রতা, নামাজ ও খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা—বান্দার জন্য গুনাহ মাফের বড় সুযোগ তৈরি করে। নিয়মিত জুমার আদব রক্ষা করলে তা আত্মশুদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন