নাপাক কম্বল ও তোশক পবিত্র রাখার বিধি

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা, যা প্রতিটি বিষয়েই সুষ্ঠু সমাধানের পথ নির্দেশ করে। পবিত্রতা হলো ইসলামের অপরিহার্য অনুষঙ্গ, এবং এর অভাবে অনেক বিধান সঠিকভাবে পালন করা সম্ভব নয়।
রাতে স্বপ্নদোষ বা সহবাসে অসতর্কতার কারণে বিছানা চাদর, কম্বল ও তোশক ইত্যাদিতে নাপাকি লেগে যেতে পারে। অনেকে জানতে চান, কম্বল-তোশক নাপাক হলে পবিত্র করার উপায় সম্পর্কে।
এর উত্তরে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, বীর্য নাপাক। বীর্য শুকনো হলে খুঁটিয়ে তুলে ফেলা ও ভেজা হলে কাপড়টি ধৌত করার কথা হাদিসে এসেছে। হজরত আমর বিন মাইমুন (রহ.) সুলাইমান বিন ইয়াসার (রা.)-কে বীর্য লাগা কাপড়ের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে-- তিনি বলেন, আয়েশা (রা.) বলেছেন,
- আমি রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসরল্লাম-এর কাপড় থেকে তা ধুয়ে ফেলতাম। তারপর তিনি নামাজের জন্য বের হতেন; এমতাবস্থায় যে, কাপড়ে পানির ছাপ লেগে থাকত। (বুখারি, হাদিস : ২৩১, ২২৯)
আরেক হাদিসে আম্মার বিন ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসরল্লাম বলেন,
- নিশ্চয় ৫টি কারণে কাপড় ধৌত করতে হয়-- এক. পায়খানা, দুই. প্রশ্রাব, তিন. বমি, চার. রক্ত, পাঁচ. বীর্য। (সুনানে দারা কুতনি, হাদিস : ৪৫৮)
হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন,
- বীর্য ভেজা থাকলে-- তা ধুয়ে ফেল, আর শুকিয়ে গেলে তা খুটিয়ে তুলে ফেল। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস : ৯৩৩)
বীর্য শুকিয়ে যাওয়ার পর বিছানা না ধুয়ে সেখানে ঘুমানো যাবে। সেই বিছানায় ঘুমালে কাপড় ও শরীর নাপাক হবে না। তবে পবিত্র বিছানায় ঘুমানো রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসরল্লাম- এর সুন্নাহ।
এসব কম্বল-তোশকে নামাজ আদায়ের পদ্ধতি
কম্বল-তোশকের এক অংশ নাপাক হলে এর পবিত্র অংশে নামাজ পড়া জায়েজ আছে। আর ভারী তোশক বা জাজিমের এক পিঠে নাপাকি লাগলে-- এর অপর পিঠে যদি নাপাকির রং বা আর্দ্রতা প্রকাশ না পায় এবং গন্ধও পাওয়া না যায়; তাহলে পরিষ্কার পিঠে নামাজ পড়া যাবে। জাজিম ও তোশক ইত্যাদি যেগুলো ধোওয়া যায় না, সেগেুলোতে নাপাকি লেগে গেলে-- নাপাকি শুকিয়ে যাওয়ার পর তার উপর জায়নামাজ বা কাপড় বিছিয়ে তা ব্যবহার করা যাবে এবং নামাজ পড়া যাবে । (হালবাতুল মুজাল্লি : ১/৫৭১; আসসিআয়া : ২/৫৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ২/৩০)
দৈএনকে/জে, আ