সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
Natun Kagoj

ইসলামে স্বামীর জুলুম: দুনিয়া ও পরকালের সতর্কবার্তা

ইসলামে স্বামীর জুলুম: দুনিয়া ও পরকালের সতর্কবার্তা
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ইসলামে পরিবারকে সমাজের মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে তার পরিবারের নিকট উত্তম।" কিন্তু যারা স্ত্রীর ওপর জুলুম করে এবং তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর সতর্কবার্তা।

স্বামীর দোষী আচরণ শুধুমাত্র পরিবারের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করে না, বরং দুনিয়ার বিভিন্ন ক্ষতি এবং পরকালের কঠোর শাস্তিও বহন করে।

দুনিয়াজুড়ে প্রভাব:

  • বরকত ও শান্তি হরণ: যে ঘরে স্ত্রীর ওপর জুলুম করা হয়, সেই ঘর থেকে আল্লাহর রহমত ও বরকত চলে যায়। অভাব ও অশান্তি পরিবারকে ঘিরে ধরে।
  • প্রার্থনা গ্রহণ না হওয়া: স্ত্রীর দোয়া স্বামীর জন্য বিপদ ও কষ্টের কারণ হতে পারে।
  • সামাজিক লাঞ্ছনা: অত্যাচারী ব্যক্তি মানুষের কাছে ঘৃণিত হয়ে পড়েন।
  • সন্তানদের অবাধ্যতা: পিতার খারাপ আচরণ তার সন্তানদের মধ্যে প্রতিফলিত হয়।

পরকালীন শাস্তি:
ইসলামিক শিক্ষায় বলা হয়েছে, কিয়ামতের দিন জুলুমের বিচারের মাত্রা অত্যন্ত কঠোর। মহান আল্লাহ বলেন, "আর তোমরা মনে করো না যে, আল্লাহ জালিমদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গাফেল।" (সূরা ইব্রাহিম: ৪২)। জুলুম কিয়ামতের দিনে ঘন অন্ধকার হিসেবে দেখা দেবে। হক আদায় না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ সম্ভব নয়।

সংশোধনের পথ:
ইসলাম শুধুমাত্র শাস্তির কথাই বলে না, বরং সংশোধনের পথও দেখায়। স্বামীদের উচিত:

  • অবিলম্বে স্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
  • প্রাপ্য পাওনা মিটিয়ে দেওয়া।
  • ভবিষ্যতে আর কখনো জুলুম না করার সংকল্প।
  • আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা করা।

স্ত্রী কোনো দাসী বা কেনা গোলাম নয়; তিনি অর্ধাঙ্গিনী ও জীবনের সঙ্গী। একজন মুমিন বান্দার বৈশিষ্ট্য হলো স্ত্রীর সাথে নম্র ও সম্মানজনক আচরণ করা। অন্যথায়, দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় জগতেই কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত।


দৈএনকে/জে, আ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন