দরুদ, ইস্তেগফার ও দোয়া: বৃহস্পতিবারের সেরা আমল

আজ ১ জানুয়ারি, ২০২৬; বছরের প্রথম দিনটি বৃহস্পতিবার হওয়ায় আজ সূর্যাস্তের পর থেকেই শুরু হয়েছে পবিত্র জুমু’আর রাত। ইসলামী রীতি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মাগরিব থেকে শুরু করে শুক্রবার মাগরিবের পূর্ব পর্যন্ত সময়টি অত্যন্ত বরকতময়। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে প্রতিটি মুহূর্ত নেকি ও সওয়াব অর্জনের এক বিশাল ভান্ডার হিসেবে বিবেচিত হয়।
দরুদ পাঠের বিশেষ গুরুত্ব
জুমু’আর দিন ও রাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর একটি হলো নবী করীম (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দিনে অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। দরুদ পাঠের জন্য ব্যবহারযোগ্য প্রার্থনা হলো:
اَللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّد(ﷺ)
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সল্লি ওয়া সাল্লিম 'আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ ﷺ।
সূরা কাহফ ও ইস্তেগফারের মাহাত্ম্য
জুমু’আর দিনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সূরা কাহফ তিলাওয়াত করা। হাদীসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি এই দিনে সূরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমু’আ থেকে পরবর্তী জুমু’আ পর্যন্ত একটি বিশেষ নূর বা আলো চমকাতে থাকবে। পাশাপাশি নিজের গুনাহ মাফ এবং চারিত্রিক পবিত্রতার জন্য বেশি বেশি ‘ইস্তেগফার’ বা ক্ষমা প্রার্থনার ওপর জোর দিয়েছেন ইসলামী চিন্তাবিদগণ।
মানবতার তরে দোয়া
জুমু’আর দিনটি কেবল নিজের জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত ও মজলুম মানুষদের জন্য দোয়া করার এক বিশেষ সময়। এই বরকতময় দিনে দুস্থ ও অসহায় মানুষের কল্যাণ কামনা করা ইসলামের মানবিক আদর্শের প্রতিফলন।
সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় জুমু’আর দিনের গুরুত্ব অপরিসীম। যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু শক্তিশালী আমলগুলো পালনের মাধ্যমে একজন মুমিন মানসিকভাবে প্রশান্ত এবং আত্মিকভাবে সমৃদ্ধ হতে পারেন। বর্তমান সময়ের অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতে এই নূরানী মুহূর্তগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট আলেম সমাজ।
দৈএনকে/জে, আ