থেমে গেল জীবনের স্পন্দন, পরম আশ্রয়ের খোঁজে রবের কাছে আত্মা

সুরা : আল-ফাজর, আয়াত : ২৭-২৮
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
یٰۤاَیَّتُهَا النَّفۡسُ الۡمُطۡمَئِنَّۃُ ﴿٭ۖ۲۷﴾ ارۡجِعِیۡۤ اِلٰی رَبِّكِ رَاضِیَۃً مَّرۡضِیَّۃً ﴿ۚ۲۸﴾
সরল অনুবাদ
২৭. হে প্রশান্ত আত্মা!
২৮. তুমি তোমার রবের কাছে ফিরে আস সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
পবিত্র কুরআনের আলোকচ্ছটা: প্রশান্ত আত্মার প্রতি মহান রবের ডাক
সুরা আল-ফাজরের শেষ দিকের আয়াতগুলো পবিত্র কুরআনের অত্যন্ত গভীর, মমতাময় এবং আশাব্যঞ্জক আহ্বানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখানে মহান আল্লাহ ‘নাফসুল মুতমাইন্নাহ’ (النفس المطمئنة) বা ‘প্রশান্ত আত্মা’র অধিকারীদের সম্বোধন করেছেন।
প্রশান্ত আত্মা আসলে কী? ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, ‘নাফসুল মুতমাইন্নাহ’ হলো সেই আত্মা—
যা অটল ঈমান ও বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
যা জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখে।
ইবনে কাসীর (রহ.) বলেন, ‘হে প্রশান্ত আত্মা’ সেটিই যেটি দুনিয়ার পরীক্ষায় আল্লাহকে ভুলে যায়নি, বিপদে ধৈর্য ধরেছে, স্বচ্ছলতায় কৃতজ্ঞ থেকেছে। ক্ষমতা, মর্যাদা ও প্রভাব থাকা সত্ত্বেও অন্তরে আল্লাহভীতি লালন করেছে।
আয়াতে ‘তুমি তোমার রবের দিকে ফিরে এসো’ এ বাক্য্যটি মৃত্যুর মুহূর্তে মুমিনের আত্মার প্রতি ফেরেশতাদের আহ্বান। ইমাম তাবারি ও কুরতুবি (রহ.) উল্লেখ করেন; এখানে ‘ফিরে আসা’ মানে কেবল মৃত্যু নয়, বরং রহমত, ক্ষমা ও চিরস্থায়ী জীবনের দিকে প্রত্যাবর্তন।
আয়াতের ‘সন্তুষ্ট ও সন্তোষপ্রাপ্ত অবস্থায়’ বাক্যে রাদিয়াতান (راضية) অর্থ হচ্ছে আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট আত্মা। আর মারদিয়্যাহ (مرضية) অর্থ হচ্ছে সেই আত্মার যার ওপর মহান আল্লাহ সন্তুষ্ট।
অর্থাৎ, দুনিয়ার জীবনে সীমাবদ্ধ ভুল-ত্রুটি সত্ত্বেও, ঈমান ও নিয়তের কারণে আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন; এটাই এই আয়াতের সবচেয়ে বড় সুসংবাদ।
এই আয়াত মানবজীবনের শেষ অধ্যায়কে মর্যাদা ও প্রশান্তির ভাষায় প্রকাশ করে। এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ক্ষমতা, জনপ্রিয়তা ও ইতিহাসের অধ্যায় পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সবাইকে আল্লাহর দরবারেই ফিরে যেতে হয়। কোনো এক সময় সকল ক্ষমতা থেমে যায়।
আর আত্মা ফিরে যায় রবের কাছে।
কাজেই আমরা সবাই মহান আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থেকে এমন আত্মা ঘঠনে প্রেচেষ্টা চালাই যার ওপর মহান আল্লাহ সন্তুষ্ট থাকবেন।