মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ভয়াবহ ভূমিকম্পেও অটুট মাতৃত্ব, জীবিত উদ্ধার মা ও শিশু সিটি করপোরেশন বাদে বিরোধী আসনে ২০ কোটি টাকার বরাদ্দ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান আহসান হাবিব চাকরির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা নয়, কর্মসংস্থান তৈরি করবে তরুণরা: প্রধানমন্ত্রী বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর হারারে টেস্টে বাংলাদেশের হতাশা, বড় লিড গড়ছে জিম্বাবুয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বছরে একটি গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা আবেদন কঠিন হচ্ছে? নতুন নীতিতে কী কী বদলাল ইসরায়েল কি হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সমর্থন? মুস্তাফা মনোয়ারের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গলবার
  • সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা অবরুদ্ধ; প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রযন্ত্রের সংকট

    সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা অবরুদ্ধ; প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রযন্ত্রের সংকট
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদকে দীর্ঘ ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা নিছক একটি বেতন–ভাতা সংক্রান্ত অসন্তোষ নয়; এটি দেশের প্রশাসনিক কাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রের সামগ্রিক শৃঙ্খলা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। দেশের কেপিআই বা কী পয়েন্ট ইনস্টলেশনভুক্ত সবচেয়ে সংবেদনশীল স্থানে এ ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়া প্রশাসনের ভেতরে সমন্বয়হীনতা, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং গভীর দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে। সাবেক আমলারা একে ‘নজিরবিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, যা এই ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।

    সচিবালয় হলো দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র। সেখানে কোনো উপদেষ্টাকে কর্মচারীদের চাপে আটকে রাখা শুধু নিরাপত্তা ঝুঁকি নয়, বরং প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করা। কর্মচারীদের দাবি থাকতে পারে, এমনকি যুক্তিও থাকতে পারে কিন্তু দাবিদাওয়া প্রতিষ্ঠার উপায় যদি হয় কাউকে কক্ষবন্দী করে রাখা, তাহলে তা রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতি স্পষ্ট অবমাননা। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত কাজ, ঝুঁকি, নিয়মিত চাপ এবং ওভারটাইম সুবিধা না থাকার কারণে সচিবালয় কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ জমে ওঠা অস্বাভাবিক নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশেষ ভাতা চালুর নজিরও আছে। তাই সচিবালয় ভাতার প্রশ্নটি অসম্ভব অযৌক্তিকও নয়। কিন্তু দাবি যতই গ্রহণযোগ্য হোক, তা প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি দায়িত্বজ্ঞানহীন হলে রাষ্ট্রের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব অনিবার্য।

    অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থসচিব সন্ধ্যায় আলোচনায় বসে আশ্বাস দিলেও আন্দোলনকারীরা তা মানেননি। তারা সেদিনই প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে অনড় ছিলেন। এতে স্পষ্ট, প্রশাসনের ভেতরে বিশ্বাসের জায়গাটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। সরকারের প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা কমে গেছে, আর সেই শূন্যতাকে কাজে লাগিয়েই আন্দোলনকারীরা চরম পন্থা অবলম্বন করেছেন। সরকারের পক্ষেও ভুল ছিল; যে সুপারিশ বা সুযোগ বাস্তবায়নের সক্ষমতা নেই, তা ঘোষণার মাধ্যমে প্রত্যাশা তৈরি করা উচিত হয়নি। প্রত্যাশা তৈরি হলে আশাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং ঠিক সেটাই ঘটেছে।

    ঘটনার শেষে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট প্রবেশ, বাঁশি বাজিয়ে আন্দোলনকারীদের সরানোর চেষ্টা, ধস্তাধস্তি সব মিলিয়ে সচিবালয়ের পরিবেশ টানটান উত্তেজনায় রূপ নেয়। একজন উপদেষ্টাকে পুলিশি পাহারায় সচিবালয় থেকে বের করতে হওয়া রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এটি শুধু দেশের ভেতর নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নেতিবাচক বার্তা পাঠায় যে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক স্থাপনাতেও স্থিতিশীলতা নেই।

    এ ঘটনার দায় কারও একার নয়। কর্মচারীরা দায়িত্বহীন আচরণ করেছেন, প্রশাসন আগাম সতর্কতা ও সমন্বয় বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, আর সরকার নীতিগতভাবে পরিষ্কার ও বাস্তবসম্মত অবস্থান নিতে পারেনি। কিন্তু এর প্রভাব পড়েছে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর। নির্বাচন সামনে রেখে এমন ঘটনা আরও বেশি সংবেদনশীল; প্রশাসনে অস্থিরতা রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, এ ঘটনা সরকারি কর্মচারীদের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে, যা পেশাদার রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য মোটেও শুভ লক্ষণ নয়।

    এখন প্রয়োজন শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, পরিষ্কার নীতি ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ। দাবি-দাওয়া আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত—জোরজবরদস্তি বা চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে নয়। সচিবালয়ের নিরাপত্তা প্রটোকল পুনর্গঠিত হওয়া জরুরি, যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামোর প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখতে হলে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ রাষ্ট্রযন্ত্রের ওই কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তার প্রভাব শুধু একটি ভবনের দেয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; পুরো দেশের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতাই তাতে প্রশ্নের মুখে পড়ে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন