দুর্নীতি দমন প্রক্রিয়ার শক্তিশালী যাত্রা

আজ ২১ নভেম্বর, রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের একমাত্র প্রতিষ্ঠান, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর “দুর্নীতি দমন, নিয়ন্ত্রণ ও উত্তম চর্চার বিকাশ” শ্লোগানকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু করে এই স্বাধীন কমিশন। দীর্ঘ ২১ বছরে দুদক রূপান্তরিত হয়েছে দেশের দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের অন্যতম মূল স্তম্ভে, যেখানে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ধারা অব্যাহত রয়েছে।
প্রথম কমিশনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিচারপতি সুলতান হোসেন খান। এরপর নানা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করেছেন সাবেক সেনাপ্রধান হাসান মশহুদ চৌধুরী, গোলাম রহমান, মো. বদিউজ্জামান, ইকবাল মাহমুদ ও মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। বর্তমানে কমিশন পরিচালনা করছেন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। বর্তমান নেতৃত্বে দুদক অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সক্রিয় ও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে।
যদিও আজ আনুষ্ঠানিক কোনো উদযাপন নেই, তবু আগামী সপ্তাহে একটি মতবিনিময় সভার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে। দুদক উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম জানান, “প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান থাকবে যে, দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পাশে দাঁড়াতে হবে। বর্তমান দুদক অতীতের তুলনায় আরও দৃঢ় ও সক্রিয়।”
দুদকের কার্যক্রমের পরিসংখ্যানও প্রমাণ করে যে, প্রতিষ্ঠানটি একনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠনের পর কার্যক্রমের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাবেক সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, আমলা এবং ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৩০০ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৫৩০টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য আমলে নেওয়া হয়েছে, ১২৯৪টি মামলা দায়ের এবং ৬২৫টি চার্জশিট প্রদান করা হয়েছে। বিশেষ করে আগস্টে ৩১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা এক মাসে সর্বাধিক।
এই পরিসংখ্যানগুলো শুধু সংখ্যার খেলা নয়। এটি প্রমাণ করে যে দুদক দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকরভাবে সরব ভূমিকা পালন করছে। দেশবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী, দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে দুদককে আরও স্বচ্ছ, সক্রিয় এবং দায়িত্বশীল হতে হবে।
দুদকের ২১তম জন্মদিন কেবল একটি তারিখ নয়, এটি এক ধরনের প্রতিজ্ঞা – যে প্রতিটি সরকারি ও ব্যক্তিগত খাতের দুর্নীতিকে চিহ্নিত করা হবে, প্রতিরোধ করা হবে এবং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই যাত্রা এখনও চলমান, তবে ইতিমধ্যেই এটি দেশের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে – যে স্বচ্ছতা, দায়িত্ব ও সততার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সংস্থা জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে।
সর্বপরি, দুদকের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হলো একটি সুযোগ দেশের সকলকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার যে, দুর্নীতিবিরোধী কাজ কোনো রাজনৈতিক সীমা নয়, এটি জাতীয় দায়িত্ব। বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য দুদকের কাজ হবে দেশের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতার নিশ্চয়তা, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের প্রত্যাশা প্রতিফলিত হবে।